রমজান মাস ঘিরে রাজধানীর বাজারগুলোতে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বাড়ায় বেশ কিছু পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে মুরগি, গরুর মাংস ও মাছের বাজারে দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে কিছু রোজার বিশেষ পণ্য যেমন ছোলা, চিনি ও খেজুরের দাম কিছুটা কমতির দিকে।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ানবাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি মুরগির দাম কেজিপ্রতি ৫০-৬০ টাকা বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়ে প্রতি কেজি ২০০ টাকায় পৌঁছেছে, যেখানে এক সপ্তাহ আগেও এটি ছিল ১৯০ টাকা। তবে সোনালি মুরগির দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি, আগের মতোই ২৮০-৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দামও বেড়েছে। আগে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন কেজি প্রতি ৭৮০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। খাসির মাংসের দাম আরও বেশি বেড়ে ১১০০ টাকা থেকে ১২৫০-১৩০০ টাকায় উঠেছে। শুধু মাংস নয়, মাছের বাজারেও প্রভাব পড়েছে রোজার আগমনের। চিংড়ি, কই, শিং, তেলাপিয়া, রুই ও পাঙাশ মাছের দাম কেজিতে ২০-৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহে তেমন কোনো সমস্যা না থাকলেও চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ছে।
শাকসবজির বাজারেও প্রভাব পড়েছে রমজানের। আলু ও পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা করে বেড়ে যথাক্রমে ২৫ ও ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বেগুনের দাম, যা দ্বিগুণ হয়ে এখন ৬০-৭০ টাকা কেজিতে উঠেছে। শসার দামও বাড়তি। হাইব্রিড শসার কেজি ৫০-৬০ টাকা এবং দেশি শসার কেজি ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেবুর দামও চড়া, হালিপ্রতি ৪০-৮০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
তবে বাজারের সব পণ্যের দাম বাড়েনি। রোজার গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলোর মধ্যে ছোলার কেজি ১০০-১১০ টাকা, চিনির দাম কমে ১১৫-১২০ টাকা, মসুর ডাল ১১০ টাকা এবং বেসন মানভেদে ৮০-১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া খেজুরের দাম কিছুটা কমতির দিকে থাকলেও চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বাজারে নজরদারি রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ছে। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা রোজার সময় বাড়তি মুনাফার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে দাম বাড়িয়ে দেন। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও সিন্ডিকেটের কারণে কিছু পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে, যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজার মনিটরিং জরুরি।রমজানের বাকি কয়েকদিনের মধ্যে আরও দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ক্রেতারা। তবে সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বাড়ালে দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।


