দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরগুলোতে এবারের বোরো মৌসুম ভয়াবহ বিপর্যয়ে পড়েছে। অকাল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সাত জেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে লক্ষাধিক হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মৌলভীবাজার—এই সাত জেলার হাওরাঞ্চলজুড়ে এখন শুধু পানির সমারোহ। যেখানে এই সময় ফসল কাটার ব্যস্ততা থাকার কথা, সেখানে কৃষকরা অসহায় হয়ে ডুবে যাওয়া জমির দিকে তাকিয়ে আছেন। অনেক জায়গায় কোমরসমান পানিতে নেমে শেষ চেষ্টা হিসেবে ধান কাটছেন কৃষকরা, তবে তাতেও ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, অন্তত এক লাখ হেক্টরের বেশি জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় দেড় লাখ কৃষক পরিবার আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন, ফলে ফসলহানির সঙ্গে তাদের ঋণের বোঝাও বেড়ে গেছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে। ফসল শুকানোর জন্য ড্রায়ার সরবরাহের ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে তা হাওরে পৌঁছেনি। একই সঙ্গে শ্রমিক সংকটও প্রকট। অন্য অঞ্চল থেকে শ্রমিক আনার উদ্যোগ না থাকায় কৃষকরা সময়মতো ধান কাটতে পারেননি। ফলে বৃষ্টির পানিতে অনেক জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সীমিত সংখ্যক কম্বাইন হার্ভেস্টার থাকলেও সেগুলো প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সবাই ব্যবহার করতে পারেননি। অন্যদিকে পানির উচ্চতার কারণে অনেক জায়গায় এসব যন্ত্র ব্যবহার করাও সম্ভব হয়নি। এতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে।
এদিকে দুর্যোগের মধ্যে সরকারি প্রতিবেদন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সুনামগঞ্জে ধান কাটার অগ্রগতি নিয়ে দেওয়া তথ্যকে বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দাবি করছেন কৃষকরা। তাদের মতে, টানা বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে কয়েকদিন মাঠে নামাই সম্ভব হয়নি, অথচ প্রতিবেদনে ধান কাটার হার বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে।


