নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার ও রাজনৈতিক অঙ্গনের শুদ্ধিকরণ ছাড়া দেশে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক সংস্কার ছাড়া স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো যাবে না। শনিবার (১ মার্চ) রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “যে পদ্ধতিতে শেখ হাসিনা স্বৈরাচারী হয়েছেন, সেই পদ্ধতির সংস্কার করতে হবে। যদি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাওয়া হয়, তাহলে রাজনৈতিক অঙ্গনকে স্বচ্ছ করতে হবে এবং টাকার খেলা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় গণতন্ত্র অকার্যকর হয়ে পড়বে।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থা জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে প্রক্রিয়াগত সংস্কার প্রয়োজন। এই লক্ষ্যে আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।” মানববন্ধনে বদিউল আলম মজুমদার সুজনের বিরুদ্ধে বিদেশি ফান্ড গ্রহণের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “সুজন কোনো বিদেশি ফান্ড নেয়নি। এটি কোনো নিবন্ধিত সংগঠন নয় যে বিদেশি তহবিল গ্রহণ করতে পারবে। বরং এটি ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত একটি সংগঠন, যা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করে।”
বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, “রাজনীতিকে দুর্নীতিমুক্ত করা না গেলে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। আমাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে এবং রাজনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। শুধু নির্বাচনী ব্যবস্থার পরিবর্তন করলেই হবে না, রাজনৈতিক দলগুলোকে গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হতে হবে।” তিনি বলেন, “রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিবর্তন আনতে না পারলে আবারও স্বৈরাচারী পদ্ধতি ফিরে আসবে, যা গণতন্ত্রের জন্য ভয়াবহ হবে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “গণতন্ত্রের বিকাশ এবং দেশের স্থিতিশীলতার জন্য নির্বাচন ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার প্রয়োজন। রাজনীতিকে কালো টাকা ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর হাত থেকে মুক্ত করতে হবে। তাহলেই জনগণের জন্য একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।” মানববন্ধনে বিভিন্ন পর্যায়ের নাগরিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এবং সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তারা সকলেই রাজনৈতিক ও নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি জানান।


