চলমান এসএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র বিতরণ ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না এবং এ ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
রোববার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, একটি অসাধু চক্র পরীক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ভুয়া প্রশ্নপত্র সরবরাহের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এসব প্রতারণা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে এবং কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি জানান, এই চক্রগুলো সাধারণত লোভনীয় প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয় এবং পরে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে উধাও হয়ে যায়।
উপদেষ্টা আরও বলেন, প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত যেসব তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে, তার অধিকাংশই ভিত্তিহীন। এ ধরনের অপপ্রচার ঠেকাতে সাইবার নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সন্দেহজনক কার্যক্রম সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এ ধরনের গুজব ছড়ালে তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডও এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে এবং গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো কিছু বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মাহদী আমিন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ভালো ফলাফলের আশায় অবৈধ পন্থা অবলম্বন না করে নিয়মিত পড়াশোনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার একটি স্বচ্ছ, ন্যায্য ও আনন্দমুখর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে মেধা ও সততাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে এবং শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি সবার আস্থা অটুট থাকে।


