জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের শিল্পকারখানা বড় ধরনের চাপে পড়েছে। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের ঘাটতি এবং লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন কমেছে। এর সঙ্গে পরিবহনের বাড়তি ব্যয়ও যুক্ত হয়েছে। গত দুই মাসে তৈরি পোশাক, ইস্পাত, সিমেন্ট, ওষুধ, হিমায়িত মৎস্য, ভোগ্যপণ্য তৈরির কারখানায় উৎপাদন কমেছে গড়ে ২৪ শতাংশ। একই সময়ে পরিচালন ব্যয় বেড়েছে ৩০ শতাংশের বেশি। গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রাম, সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খুলনা, মুন্সীগঞ্জের প্রধান শিল্পাঞ্চল ঘুরে এবং তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
দেশের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র চট্টগ্রামে সচল থাকা এক হাজার ৬৭৬টি শিল্পকারখানার মধ্যে পোশাক, রি-রোলিং মিল, জাহাজ ভাঙা ও সিমেন্টের মতো ভারী শিল্পগুলোই প্রধান। জ্বালানি সংকটের কারণে এ ধরনের শিল্পে উৎপাদন প্রায় এক-চতুর্থাংশ কমেছে। এ ছাড়া সাভার-আশুলিয়ায় সাড়ে তিন শতাধিক সচল পোশাক কারখানা ও আনুষঙ্গিক প্রতিষ্ঠান আছে। সেগুলোতে দৈনিক উৎপাদন এক লাখ পিস থেকে নেমে এসেছে ৮০ ১৯৫১ হাজারে।
গাজীপুরে ছোট-বড় প্রায় পাঁচ-চান্দ্রার শিকারখানা রয়েছে, যার একটি বড় মাংশ টেক্সটাইল ও চাই। এখানে বিদ্যুৎ ঘাটতি ৩০ শতাংশে পৌঁছে যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে প্রায় ২৯৫ শতাংশ। অন্যদিকে, নাররাণগঞ্জের রণাজে প্রায় দুই হাজার ছোট-বড় বন্ধ ও পোশাক কারখানায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।
এ ছাড়া কুমিল্লার রপ্তানিমুখী বিভিন্ন ইউনিট, ময়মনসিংহের ভালুকা এবার টেক্সটাইল চাল এবং খুলনার সহস্রাধিক হিমায়িত মাস্য ও পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী কারখানায় উৎপাদন ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
উৎপাদন কমার পাশাপাশি দ্রুত বাড়ছে বায়। ড্রালানি সংকটে জেনারেটরনির্ভরতা বাড়ায় অনেক গেত্রে বিস্তাতের তুলনায় দরচ দ্বিগুণ হয়েছে। পরিবহন ধায় ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় সময়মতো পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। গলে অনেক উদ্যোক্তাকে বাড়তি খরচে বিকল্প ব্যবস্থায় যেতে হচ্ছে। র সঙ্গে কাঁচামাদের আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধি যুক্ত হয়ে রপ্তানি খাত্রেও চাল তৈরি করছে। –


