তৈরি পোশাক খাতে কর্মক্ষেত্র-সংক্রান্ত সব ধরনের অভিযোগ নিষ্পত্তির দায়িত্ব নিচ্ছে আরএমজি সাসটেইনেবিলিটি কাউন্সিল (আরএসসি)। এতদিন সংস্থাটি শুধু পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য (ওএসএইচ) বিষয় দেখভাল করলেও এবার তাদের কার্যপরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।
সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আরএসসির বোর্ড অব ডিরেক্টরস গত ২০ অক্টোবর ‘কম্প্রিহেনসিভ কমপ্লেইন্টস মেকানিজম’ (সিসিএম) নামে একটি নতুন অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে, যা আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে মালিক, শ্রমিক ও ব্র্যান্ড—তিন পক্ষের অংশগ্রহণে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠবে। যেখানে অন্যায্য চাকরিচ্যুতি, বেতন-বোনাস, ছুটি, শ্রমিক সংগঠন করার স্বাধীনতা, যৌথ দরকষাকষি, শিশুশ্রম, জোরপূর্বক শ্রম ও বৈষম্য—সব ধরনের অভিযোগের ন্যায়সংগত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে।
আরএসসি জানিয়েছে, সিসিএম প্রক্রিয়াটি দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে ১৬ নভেম্বর থেকে ৫৮টি ব্র্যান্ড ও ১,১৮৫টি কারখানা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এরপর ছয় মাসের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপে বাকি ব্র্যান্ড ও কারখানাগুলোও এই ব্যবস্থার আওতায় আসবে।
সংস্থাটি মনে করছে, তৈরি পোশাক খাতে টেকসই ও ন্যায্য কর্মপরিবেশ গঠনে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারখানাগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সঠিক তথ্য প্রদানের মাধ্যমেই এই প্রক্রিয়া সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে আরএসসি।
আরএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল হক বলেন, “আমরা চাই একটি বিশ্বাসযোগ্য ও নিরপেক্ষ অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে। এটি শুধু শ্রমিকদের নয়, মালিক ও ব্র্যান্ডের জন্যও উপকারী হবে। কর্মক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিতের পথে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।”
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে আন্তর্জাতিক মানের অভিযোগ নিষ্পত্তি কাঠামো গড়ে উঠবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।


