সয়াবিন তেলের পর এবার ছোলার বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। রোজার আগে পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকা ছোলার দাম একদিনের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে ছোলা বিক্রি হচ্ছে ১১০-১৩০ টাকায়, যা আগের দিন ছিল ১০০-১২০ টাকা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোলার পাশাপাশি চাল, ময়দা, আদা, হলুদ, জিরা, এলাচসহ বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়েছে। ফলে ক্রেতাদের বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে ছোলার দাম বেড়েছে বলেই খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। নয়াবাজারের ব্যবসায়ী মো. তুহিন বলেন, “রোজার আগে পর্যন্ত দাম অপরিবর্তিত ছিল। কিন্তু বুধবার পাইকারি বাজারে কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে, তাই খুচরা পর্যায়েও দাম বাড়াতে হয়েছে।”
এক সপ্তাহের ব্যবধানে মোটা চালের দামও বেড়েছে। স্বর্ণা জাতের চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৮-৬০ টাকা কেজি, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫৫ টাকা। পাইজাম চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায় এবং সরু চাল ৭২-৮৫ টাকায়। কাওরান বাজারের চাল ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান জানান, “রোজার পর মিল মালিকরা কেজিতে ৪ টাকা বাড়িয়েছে, ফলে পাইকারি ও খুচরা উভয় বাজারেই দাম বেড়েছে।”
খুচরা বাজারে ময়দা, আদা, হলুদ, জিরা ও এলাচের দামও বেড়েছে। দেশি হলুদ এখন প্রতি কেজি ৪০০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩৫০ টাকা। আমদানি করা হলুদ ৪২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা সাত দিন আগে ছিল ৩০০ টাকা। দেশি আদা ২০০ টাকা কেজি, আমদানি করা আদা ২২০ টাকা, আর জিরার দাম ৭৮০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজারে অভিযান চালিয়েছে। ঢাকার শ্যামপুর ও সিলেটে অভিযান পরিচালনা করে কয়েকটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। সিলেটে অতিরিক্ত দামে সয়াবিন তেল বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।
বাজারে নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ব্যবসায়ীদের মতে, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে কিছুদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।


