কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দেশের মসলার বাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠছে। ব্যবসায়ীরা জ্বালানি সংকট, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আমদানি খরচ বাড়ার কথা বলে খুচরা পর্যায়ে মসলার দাম বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ বছর ঈদের আগেই মসলার চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি না থাকলেও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির অজুহাতে দাম বাড়ানো হচ্ছে।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জসহ দেশের বড় পাইকারি বাজারগুলোতে এখনো অনেক মসলার পাইকারি দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে বেশি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে, ফলে পণ্যের দামও বাড়ছে।
জানা গেছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে দু-তিন টাকা করে বেড়েছে। রসুনের দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১২ টাকা, আস্ত ধনিয়া কেজিপ্রতি ১০-১৫ টাকা বেড়েছে । তবে অধিকাংশ মসলার দাম বর্তমানে নিম্নমুখী।
বৃহস্পতিবার খাতুনগঞ্জে প্রতি কেজি শুকনো মরিচ (আমদানি করা) বিক্রি হয়েছে ৪০০ টাকায়। ১৫ দিন আগে এই মরিচের দাম ছিল ৮-১০ টাকা কম। পঞ্চগড়ে মরিচের দাম ২৪৫ টাকা আর আমদানিকৃত ঝাল মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ টাকা কেজি দরে। সব ধরনের মরিচে পাঁচ থেকে আট টাকা পর্যন্ত বেড়েছে জ্বালানি সংকটের অজুহাতে। যদিও দেশি হলুদের দাম ১২ থেকে ১৫ টাকা কমে কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২১৮ টাকায়। এছাড়া ধনিয়ার দাম কেজিপ্রতি ১০-১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩৮ থেকে ১৫৫ টাকায় (মানভেদে)। জয়ত্রীর দাম কেজিপ্রতি ২০০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ৯০০ টাকা দরে।
এদিকে পাইকারি বাজারে আমদানিকৃত গরম মসলার মধ্যে জিরার দাম কেজিপ্রতি ৮-১০ টাকা কমে ৫৫০, দারুচিনি ৩৫০-৩৫৫, লবঙ্গ এক হাজার ৩৩০, গোলমরিচ এক হাজার ২০, এলাচ চার থেকে সাড়ে চার হাজার, জায়ফল ৭০০, কালোজিরা ৩৬০, মেথি ১৩০, সরিষা ৯৪-৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ সর্বনিম্ন ২২ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৮ টাকায় লেনদেন হয়েছে। যদিও সদ্য মাঠ থেকে উঠানো পানিযুক্ত ও পচন ধরা পেঁয়াজ পাইকারিতে কেজিপ্রতি সাত টাকা থেকে ১৫ টাকায় বেচাকেনা হতে দেখা গেছে। আমদানি করা রসুন ১৩০ থেকে ১৩২, দেশি রসুন ৬৫ থেকে ৭০, আমদানিকৃত আদা ৯০ থেকে ৯২ টাকা কেজিদরে বিক্রি হয়েছে ।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, খুচরা বাজার থেকে চট্টগ্রামের আশপাশের এলাকাগুলোতে কেজিতে প্রকারভেদে পাঁচ থেকে ১০ টাকা, ঢাকা পর্যন্ত ১২ থেকে ১৫ টাকা আর উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে খাতুনগঞ্জের চেয়ে কেজিতে ১২ থেকে ১৭ টাকা পর্যন্ত বেশিতে বিক্রি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু বর্তমানে প্রতিটি পণ্যই চট্টগ্রামের আশপাশের বাজারগুলোতে খাতুনগঞ্জের চেয়ে কেজিতে ১২ থেকে ১৫ টাকা, ঢাকার আশপাশে ২০ টাকা ও দূরের জেলাগুলোতে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বেচাকেনা হচ্ছে, যা অস্বাভাবিক।
অন্যদিকে ভোক্তাদের অভিযোগ, জ্বালানি সংকটকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে। আগে থেকেই অতিরিক্ত মজুদ করে বাজারে চাপ সৃষ্টি করার ঘটনাও সামনে এসেছে।
তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যথাযথ নজরদারি না থাকলে ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মসলার বাজারে এই অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করবে।


