সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশে একের পর এক আন্দোলন, সড়ক অবরোধ ও সহিংসতা দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ গড়ে উঠলেও এসব আন্দোলনের পেছনে কারা সক্রিয়, তা নিয়ে তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, পরাজিত রাজনৈতিক শক্তি এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। সরকারি সংস্থাগুলোর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, বিভিন্ন খাতে আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে সংঘবদ্ধ কিছু গোষ্ঠী কাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিক্ষোভ ও কর্মসূচিগুলোকে উসকে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শ্রমিক অসন্তোষ, ধর্মীয় উস্কানি এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাধ্যমে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা চলছে।
একটি বিশেষ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে বিভিন্ন সময় সংঘটিত আন্দোলনের নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত শক্তির অর্থায়ন ও পরিকল্পনা। এদের সঙ্গে সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে তৈরি পোশাক শিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে একটি চক্র কাজ করছে বলে গোয়েন্দাদের ধারণা। শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বাধানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কিছু এলাকায় ইতোমধ্যে বিচ্ছিন্ন বিক্ষোভ দেখা গেছে, যা পরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে।
গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, একটি ‘ভায়োলেন্স ক্রিয়েটার গ্রুপ’ গঠন করা হয়েছে, যারা টাকা নিয়ে বিক্ষোভ, অবরোধ ও সহিংসতায় অংশ নিচ্ছে। এই গ্রুপের কাজ হলো শ্রমিকদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো সহিংসতা কঠোর হাতে দমনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানিয়েছেন, দেশে অরাজকতা তৈরির পেছনে কারা রয়েছে, তা চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ সাজ্জাদ আলী বলেছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তা মোকাবিলায় ‘ডেভিল হান্ট অপারেশন’সহ বিশেষ অভিযানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, দেশকে অস্থিতিশীল করতে সক্রিয় গোষ্ঠীগুলোকে কঠোরভাবে দমন করা হবে। প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে এবং যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র ঠেকাতে প্রস্তুত রয়েছে।


