ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন যে, সহকারী বাইন্ডার মোস্তফা আসিফ অর্ণবের দ্বারা পোশাক নিয়ে হেনস্তার শিকার হওয়ার পর তার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, পুলিশের মাধ্যমে তার তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় তিনি ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি পাচ্ছেন।
ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে ওই শিক্ষার্থী লেখেন, “আমার সংবেদনশীল তথ্য পুলিশ প্রকাশ করেছে। জিজ্ঞাসা করলে তারা বলছে, এজাহার কপি নাকি পাবলিক করা যায়। তাহলে এত তথ্য সেখানে কেন রাখা হয়?” তিনি আরও উল্লেখ করেন, পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হলে হয়তো তিনি মামলা করতেন না। অভিযোগকারী শিক্ষার্থী জানান, মামলার পর থেকেই তিনি বিভিন্ন নম্বর থেকে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি পাচ্ছেন। তার ভাষায়, “আমি শুধু প্রতিবাদ করেছিলাম, তাই এই হুমকি পাচ্ছি। যারা দেশের বিচারব্যবস্থার দায়িত্বে আছেন, তারা কি এটাকে ন্যায়বিচার বলবেন?”
এই ঘটনায় অভিযুক্ত মোস্তফা আসিফ অর্ণবকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার রাতে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। তারা হুঁশিয়ারি দেন, যদি তাকে চাকরিতে বহাল রাখা হয়, তবে তারা ক্লাস বর্জন করবেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মামলা প্রত্যাহারে অভিযুক্তের পক্ষে বিভিন্নভাবে জনসমাগম (মব) তৈরি করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে আইন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, সমাজবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ ঢাবির ২০টি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিবৃতি দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী দেশের বিচারব্যবস্থা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি লেখেন, “একজন অপরাধী নিজের দোষ স্বীকার করার পরও জামিন পেয়ে যায়। এর মানে, অপরাধী বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারবে, আর ভিকটিম হলে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমি ভেবেছিলাম, উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে কিছু করব। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, এ দেশ ছেড়ে চলে যাওয়াই ভালো।”
শিক্ষার্থীরা এখনো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় পরিসরে প্রতিবাদ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন।


