২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস হামলার পর থেকে ফিলিস্তিন-ইসরাইল পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। হামাসের এক হামলায় ১,২০০ ইসরাইলি নিহত হন, যাদের অধিকাংশই ছিলেন সাধারণ নাগরিক। এ হামলার ফলে, ইসরাইল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে, যার ফলে ফিলিস্তিনে ব্যাপক মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। প্রায় ৪৮,৩১৯ ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং গাজার অধিকাংশ অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। এ পরিস্থিতির মাঝে, ১৯ জানুয়ারি থেকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়, যা প্রথম দফার জন্য ৪২ দিনের মেয়াদ নির্ধারিত ছিল। এই চুক্তির আওতায় হামাস ইসরাইলি বন্দি ৩৩ জনকে মুক্তি দেয়, বিনিময়ে ইসরাইল ১,৯০০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয়। শনিবার, যুদ্ধবিরতির ৭ম ধাপে হামাস আরও পাঁচজন ইসরাইলি বন্দিকে মুক্তি দেয়, এবং ইসরাইল ৬০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয়।
মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে এলিয়া কোহেন, ওমের শেম তোভ, তাল শোহান, ওমের ওয়েনকার্ট, এবং ২০১৪ সালে আটক ইথিওপিয়ান-ইসরাইলি আভেরা মেঙ্গিৎসু। তবে ২০১৫ সালে আটক হিশাম আল-সাইদকে পরবর্তী ধাপে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। বন্দিমুক্তির পাশাপাশি, যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী হামাস ভবিষ্যতে আরও বন্দিদের মুক্তি এবং নিহতদের দেহাবশেষ ফেরত পাঠাবে।এদিকে, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, যুদ্ধের এই প্রেক্ষাপটে তারা কোনো ফরেনসিক প্রমাণ খুঁজে পায়নি, তবে চুক্তির মধ্য দিয়ে দুটি পক্ষই কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে। যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এখনও দূরবর্তী, কিন্তু বন্দি বিনিময়ের এই উদ্যোগ সাময়িক শান্তির আশাবাদ সৃষ্টি করেছে।

তবে, যুদ্ধবিরতির পরেও ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে বিরোধের মূল কারণগুলো অব্যাহত রয়েছে। একদিকে, ইসরাইলের ব্যাপক সামরিক অভিযানে গাজার জনসংখ্যা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে, অন্যদিকে হামাসের হামলা এবং ইসরাইলি অবরোধ পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি সাময়িক শান্তি আনলেও, পুরো সংকটের স্থায়ী সমাধান এখনও অনিশ্চিত।


