ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। দেশটিতে নিয়মিত ব্যবহৃত পেট্রোলের প্রতি গ্যালনের গড় মূল্য এক সপ্তাহে ৩১ সেন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৪৮ ডলারে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ) জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পেট্রলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এপ্রিলের মাঝামাঝি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলে অনেক মার্কিন নাগরিক আশা করেছিলেন, সংঘাত হয়তো শেষের পথে। সে সময় প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পেট্রলের দামও কমতে শুরু করেছিল। তবে যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আবার বদলে যায় এবং জ্বালানির দাম পুনরায় বাড়তে থাকে।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির বৈশ্বিক জ্বালানি খুচরা বিভাগের পরিচালক রব স্মিথ বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং চাহিদা পূরণে যে চাপ তৈরি হয়েছে, সেটিই দামের ঊর্ধ্বগতির মূল কারণ।
তার ভাষায়, সরকার বা বাজার বিশ্লেষক যা-ই বলুক না কেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত থাকা পর্যন্ত প্রতিদিনই দামের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলছে। একই সঙ্গে এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজনৈতিক সংকটও তীব্র করছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ বাড়ায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প ও তার মিত্ররা পেট্রলের মূল্যবৃদ্ধিকে সামরিক অভিযানের লক্ষ্য অর্জনের জন্য সাময়িক মূল্য হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ থেমে গেলেও তেলের দাম সঙ্গে সঙ্গে কমে যায় না।
৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম বাড়তেই থেকেছে। রব স্মিথ বলেন, যতদিন হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত থাকবে, ততদিন জ্বালানির দাম বাড়বে এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও বেশি সময় লাগবে।
তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচলের সঙ্গে ঝুঁকির অতিরিক্ত খরচ যুক্ত থাকবে। গত কয়েক মাসের পরিস্থিতি দেখিয়েছে, যুদ্ধের আগের মতো নিরাপদ পরিবেশ ফিরে এসেছে এ কথা জাহাজ কোম্পানি ও বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বোঝানো কঠিন হবে।


