বিএটি বাংলাদেশ এবং লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ দুটি প্রতিষ্ঠানই তাদের টেকসই উন্নয়ন প্রচেষ্টার জন্য ব্লুমবার্গ থেকে স্বীকৃতি পেয়েছে, যা তাদের পরিবেশ, সমাজ, এবং শাসন (ইএসজি) সম্পর্কিত অঙ্গীকার এবং কার্যক্রমের প্রতি তাদের দৃঢ় সংকল্পের প্রদর্শন। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে তারা দেশের শীর্ষস্থানীয় টেকসই প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও টেকসই সমাজ গড়ার জন্য তাদের প্রচেষ্টাকে অব্যাহত রাখার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করে।
বিএটি বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে তার সব কার্যক্রমে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জন করার লক্ষ্যে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি ব্লুমবার্গের টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদনে সেরা ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্থান পেয়েছে, যা তাদের পরিবেশগত এবং সামাজিক দায়িত্ব পালন ও টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখার প্রতি অঙ্গীকারের পরিচায়ক।
বিএটি বাংলাদেশের হেড অব করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স, শাবাব আহমেদ চৌধুরী জানান, ‘‘সাসটেইনিবিলিটি নিয়ে কাজ করার মাধ্যমে দেশের সেরা ১০ প্রতিষ্ঠানের একটি হিসেবে ব্লুমবার্গের স্বীকৃতি পেয়ে আমরা আনন্দিত।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এই স্বীকৃতি আমাদের টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে এবং আমাদের অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে।’’
তারা তাদের সব কারখানায় পানির টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য এডব্লিউএস কোর সনদ অর্জন করেছে, যা সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা দেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিবেশগতভাবে সচেতন এবং সাসটেইনেবল প্র্যাকটিসে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্য করতে তাদের পরিকল্পনা সফল হলে তারা আরও একটি বড় মাইলফলক অর্জন করবে।
লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, একটি বিখ্যাত নির্মাণ খাতের প্রতিষ্ঠান, তাদের টেকসই উন্নয়ন প্রচেষ্টার জন্যও ব্লুমবার্গের থেকে স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সিইও মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী জানিয়েছেন, তাদের মূল প্রতিষ্ঠান উদ্ভাবনী এবং টেকসই বিল্ডিং সমাধানের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক নেতৃত্বে রয়েছে। তারা শূন্য কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্য পূরণে কাজ করছে, যা ভবিষ্যতে পরিবেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে।
তাদের টেকসই উন্নয়ন প্রচেষ্টা চারটি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, পুনর্ব্যবহারযোগ্যতা, প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং মানব কল্যাণ। এই সমস্ত পদক্ষেপ তাদের ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্য একটি শুদ্ধ এবং পরিবেশবান্ধব পৃথিবী তৈরি করার লক্ষ্যকে সামনে রেখেছে।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ইএসজি রেটিং প্রতিষ্ঠান ব্লুমবার্গ প্রতিবছর প্রায় ১৬ হাজার প্রতিষ্ঠানের টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম মূল্যায়ন করে। এই মূল্যায়ন বিশ্বব্যাপী ইএসজি মানদণ্ডে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলতা এবং পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বৈশ্বিক ইক্যুইটি বাজারের ৯৪ শতাংশ মূলধন প্রতিনিধিত্ব করে এবং বিশ্বের ৬০ শতাংশ কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য করা হয়।
এভাবে, ব্লুমবার্গের স্বীকৃতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বের বৃহৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে পরিবেশ এবং সমাজে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।
বিএটি বাংলাদেশ এবং লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের ব্লুমবার্গ থেকে সেরা ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্থান পাওয়ার এই অর্জন তাদের টেকসই উন্নয়নে অঙ্গীকার এবং অবদানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরেছে। তাদের এই প্রচেষ্টা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে, বিশেষ করে যখন এটি পরিবেশ ও সমাজের সুরক্ষা এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি টেকসই পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে অবদান রাখে।


