বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন-২০১০-এর কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী দিনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সব মূল্যবৃদ্ধির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
গতকাল রবিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান তাঁর প্রথম কর্মদিবসে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে এসব সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. হাবিবুর রহমান, জ্বালানিসচিব মো. নূরুল আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বৈঠক শেষে উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, ‘বারবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণে জনগণের দুর্ভোগ বেড়েছে। তাই এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না, যা দুর্ভোগ আরো বাড়াবে। আমরা বাধ্য না হলে মূল্য বৃদ্ধি করব না। প্রয়োজন হলে কমিশন সবার সঙ্গে কথা বলে নীতিমালা অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নেবে।
ফাওজুল কবির বলেন, বিতর্কিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধির বিশেষ আইনের অধীন চলমান সব কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তবে দায়মুক্তির বিধান নামে পরিচিত এই বিশেষ আইনে এরই মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিগুলো বহাল থাকবে এবং চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কারণ যেহেতু চুক্তি হয়ে গেছে, তাই চাইলে তা বাতিল করা যাবে না। এ জন্য আইনগত দিক খতিয়ে দেখতে হবে।
গতকাল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে উত্থাপিত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ, বিশেষত বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০২১)-এর প্রয়োগের ক্ষেত্রে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে বিরূপ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এর ফলে জনমনে বিভিন্ন প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।
এ অবস্থায় এই আইনের অধীন চলমান সব ধরনের নেগোসিয়েশন, প্রকল্প বাছাই বা প্রক্রিয়াকরণ এবং ক্রয় প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম আপাতত বন্ধ থাকবে। তবে এই আইনের অধীন এরই মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় গৃহীত সব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদকে অবহিত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০২৩-এর ৩৪ক ধারার আওতায় সরকারের জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় দৈনিকগুলোতে বিরূপ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। ফলে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বা হতে পারে। এ অবস্থায় ওই ধারার অধীনে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব বিবেচনা আপাতত স্থগিত থাকবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
তবে জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) মাধ্যমে গণশুনানি করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এত দিন আইন সংশোধন করে মন্ত্রণালয় নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো বা কমানোর কার্যক্রম পরিচালনা করত।


