রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী সালাউদ্দিন আম্মার জানিয়েছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে সক্রিয় হওয়ার পর একাধিক হুমকি ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন তিনি। এমনকি এক পর্যায়ে অজ্ঞাত একটি ফোনকলের মাধ্যমে তাকে জানানো হয়—”তোমার মাথার দাম ১০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।”
রাবির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আম্মার শুরুতে চলচ্চিত্র নিয়ে কাজ করতেন। কিন্তু পারিবারিক সংকট ও বাবার অসুস্থতার কারণে চাকরি নিতে বাধ্য হন। চাকরি থাকাকালীন সময়েই তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় হন এবং একপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেন—চাকরি নয়, আন্দোলনই তার পথ।
৪ জুলাই থেকে রাজশাহীতে আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন তিনি। ১৬ জুলাই ছিল আন্দোলনের টার্নিং পয়েন্ট, যেদিন ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়। ওই সময় শিবির নেতাদের সহায়তায় তিনি গোপনে নিরাপত্তা বজায় রেখে চলাফেরা করতেন। তবে তার আশঙ্কা ছিল—এভাবে চলতে গেলে আন্দোলনে “শিবির ট্যাগ” লেগে যেতে পারে
এক পর্যায়ে ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে গেলে বাইরে থেকেই আন্দোলন সংগঠিত করতে শুরু করেন তিনি ও তার সহকর্মীরা। আন্দোলনকে টিকিয়ে রাখতে গঠন করেন একটি সমন্বয় পরিষদ। দেশের বিভিন্ন স্থানে ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে গেলে বিদেশে থাকা প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আন্তর্জাতিক সমর্থনও নিশ্চিত করেন তারা।
৩১ জুলাই আন্দোলনের তৃতীয় দফার সময় যখন মাঠে মাত্র ৮০-৮৫ জন ছিলেন, তখন তাদের ঘিরে ফেলেছিল প্রায় এক হাজার সদস্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারপরও তারা ‘শেইম শেইম ডিক্টেটর’ স্লোগানে মুখর করে তোলে রাজশাহীর রাজপথ।
লং মার্চের আগের রাতে অজানা নাম্বার থেকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, তাকে স্নাইপ করে হত্যা করা হবে। এরপরও তিনি রাজশাহীতেই থেকে নেতৃত্ব দেন। আন্দোলনের শেষ দিকে এসে সালাউদ্দিন জানান, যখন সেনাপ্রধানের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবর আসে, তখন তিনি তালাইমারিতে নামাজ আদায় করে শেষ করেন তার দীর্ঘ লড়াইয়ের এক অধ্যায়।


