বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য জীবনরক্ষাকারী সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ২০ লাখ ইউরো অনুদান দিয়েছে ফিনল্যান্ড। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থ সহায়তার পরিমাণ ২৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকারও বেশি।
তহবিল সংকট ও ক্যাম্প পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে আসা এ অনুদানকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মিয়ানমারে সহিংসতা ও নিপীড়নের মুখে দেশ ছাড়ার প্রায় এক দশক পরও বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গা বসবাস করছে। জীবিকার সীমিত সুযোগের কারণে তাদের বড় অংশই এখনো মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
সংস্থাটি আরও জানায়, তহবিল কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে নারী ও কিশোরী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক মানুষ এবং ২০২৪ সালের শুরু থেকে আসা প্রায় দেড় লাখ নতুন রোহিঙ্গা। ক্যাম্পে জায়গার সংকটের কারণে অনেকেই এখনো মৌলিক আশ্রয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, রোহিঙ্গা সংকট এখন একটি নাজুক পর্যায়ে রয়েছে। ক্রমহ্রাসমান তহবিল, ক্যাম্পের অবনতিশীল অবস্থা, সুরক্ষা ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং মিয়ানমারের চলমান অস্থিতিশীলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে ফিনল্যান্ডের সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সুরক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, জরুরি সহায়তার পাশাপাশি এখন প্রয়োজন দক্ষতা উন্নয়ন, স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে তাদের পরিস্থিতি যেন বৈশ্বিক মনোযোগ থেকে হারিয়ে না যায়, সেটিও জরুরি।
ফিনল্যান্ডের এই অনুদান এমন সময়ে এলো, যখন জাতিসংঘ ও তার মানবিক অংশীদাররা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে।
গত ২০ মে রোহিঙ্গা মানবিক সংকটের জন্য যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনার (জেআরপি) ২০২৬ সালের হালনাগাদ সংস্করণ প্রকাশ করা হয়। এই পরিকল্পনায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ ১৫ লাখ ৬০ হাজার মানুষের জন্য ৭১ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলারের তহবিল চাওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের মতে, ২০২৫ সালের তুলনায় এই চাহিদা ২৬ শতাংশ কম। এটি মূলত জীবনরক্ষাকারী সহায়তা চালিয়ে যাওয়ার ন্যূনতম প্রয়োজনীয় অর্থ। তবে চলতি বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সহায়তায় এই তহবিলের প্রায় ৬০ শতাংশ এরই মধ্যে নিশ্চিত হয়েছে।
ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সুরক্ষায় ফিনল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০২৬ সালে দেশটি ইউএনএইচসিআরের মূল তহবিলে আরও ৭০ লাখ ইউরো দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং কম আলোচিত মানবিক সংকটে কাজ চালিয়ে যেতে সহায়তা করবে।
সংস্থাটি বলছে, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি। মিয়ানমারে পরিস্থিতি অনুকূল না হওয়া পর্যন্ত নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।


