যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এবারের নির্বাচনে মুখোমুখি হয়েছেন ডেমোক্রেট প্রার্থী কমলা হ্যারিস এবং রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। জরিপ অনুযায়ী, তাদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে এই নির্বাচন সরাসরি ভোটের ওপর ভিত্তি করে না হওয়ায় অনেকেই ফলাফল নিয়ে শঙ্কিত। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ‘ইলেকটোরাল কলেজ’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
ইলেকটোরাল কলেজ হচ্ছে একটি বিশেষ পদ্ধতি, যেখানে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের নির্দিষ্ট সংখ্যক ইলেক্টর রয়েছে। এই ইলেক্টররাই নির্ধারণ করেন কে হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। প্রতিটি রাজ্যের ইলেক্টরের সংখ্যা কংগ্রেসে ওই রাজ্যের প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে কোনো প্রার্থীকে ৫৩৮টি ইলেকটোরাল ভোটের মধ্যে অন্তত ২৭০টি ভোট অর্জন করতে হয়।
ইলেকটোরাল কলেজে জয়ী হওয়া একটি বিশেষ কৌশলের বিষয়। সাধারণত একটি অঙ্গরাজ্যে জনপ্রিয় ভোটে জিতলেই সেই রাজ্যের সব ইলেকটোরাল ভোট প্রার্থীটি অর্জন করে। উদাহরণস্বরূপ, টেক্সাসে যদি একজন প্রার্থী ৫০.১ শতাংশ ভোট পেয়ে জেতেন, তবে তিনি ওই অঙ্গরাজ্যের সকল ইলেকটোরাল ভোট পাবেন। এ কারণে একজন প্রার্থী অনেক অঙ্গরাজ্যে জনপ্রিয় ভোট না পেলেও, সঠিক অঙ্গরাজ্যগুলোতে জিতলে প্রেসিডেন্ট হতে পারেন।
এবারের নির্বাচনে ইলেকটোরাল কলেজ ব্যবস্থার কারণে প্রচারণায় মূলত সেই রাজ্যগুলোকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, যেগুলোর ইলেকটোরাল ভোট বেশি এবং যেখানে ভোটারদের সিদ্ধান্ত এখনও অনিশ্চিত। এসব ‘সুইং স্টেট’ হিসেবে পরিচিত। ফলে বড় জনসংখ্যার অঙ্গরাজ্যগুলোর পাশাপাশি ছোট রাজ্যগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে এই নির্বাচনে। ছোট রাজ্যগুলোতেও ইলেকটোরাল ভোটে কমপক্ষে তিনজন ইলেক্টরের অধিকার রয়েছে, যা ইলেকটোরাল কলেজ পদ্ধতিকে সব রাজ্যের কাছে সমান গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
তবে ইলেকটোরাল কলেজের ফলে কখনও কখনও জনপ্রিয় ভোট পাওয়া প্রার্থীও নির্বাচিত নাও হতে পারেন। ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে ঘটেছে, এবং এ বিষয়টি অনেক ভোটারকে হতাশ করে। তবু যুক্তরাষ্ট্রে এ পদ্ধতি অব্যাহত রয়েছে, কারণ এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সকল অঙ্গরাজ্যের কণ্ঠস্বর নিশ্চিত করে।
প্রচলিত এই ব্যবস্থাটি ১৭৮৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে যুক্ত হয়। তখন একটি জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা কঠিন ছিল। এর ফলে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যকে নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে দেওয়া হয়, এবং ইলেকটোরাল কলেজের ধারণা আসে।


