Friday, July 3, 2026
Home আন্তর্জাতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জয়ী কীভাবে নির্ধারিত হবে?

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জয়ী কীভাবে নির্ধারিত হবে?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এবারের নির্বাচনে মুখোমুখি হয়েছেন ডেমোক্রেট প্রার্থী কমলা হ্যারিস এবং রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। জরিপ অনুযায়ী, তাদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে এই নির্বাচন সরাসরি ভোটের ওপর ভিত্তি করে না হওয়ায় অনেকেই ফলাফল নিয়ে শঙ্কিত। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ‘ইলেকটোরাল কলেজ’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

ইলেকটোরাল কলেজ হচ্ছে একটি বিশেষ পদ্ধতি, যেখানে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের নির্দিষ্ট সংখ্যক ইলেক্টর রয়েছে। এই ইলেক্টররাই নির্ধারণ করেন কে হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। প্রতিটি রাজ্যের ইলেক্টরের সংখ্যা কংগ্রেসে ওই রাজ্যের প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে কোনো প্রার্থীকে ৫৩৮টি ইলেকটোরাল ভোটের মধ্যে অন্তত ২৭০টি ভোট অর্জন করতে হয়।

ইলেকটোরাল কলেজে জয়ী হওয়া একটি বিশেষ কৌশলের বিষয়। সাধারণত একটি অঙ্গরাজ্যে জনপ্রিয় ভোটে জিতলেই সেই রাজ্যের সব ইলেকটোরাল ভোট প্রার্থীটি অর্জন করে। উদাহরণস্বরূপ, টেক্সাসে যদি একজন প্রার্থী ৫০.১ শতাংশ ভোট পেয়ে জেতেন, তবে তিনি ওই অঙ্গরাজ্যের সকল ইলেকটোরাল ভোট পাবেন। এ কারণে একজন প্রার্থী অনেক অঙ্গরাজ্যে জনপ্রিয় ভোট না পেলেও, সঠিক অঙ্গরাজ্যগুলোতে জিতলে প্রেসিডেন্ট হতে পারেন।

এবারের নির্বাচনে ইলেকটোরাল কলেজ ব্যবস্থার কারণে প্রচারণায় মূলত সেই রাজ্যগুলোকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, যেগুলোর ইলেকটোরাল ভোট বেশি এবং যেখানে ভোটারদের সিদ্ধান্ত এখনও অনিশ্চিত। এসব ‘সুইং স্টেট’ হিসেবে পরিচিত। ফলে বড় জনসংখ্যার অঙ্গরাজ্যগুলোর পাশাপাশি ছোট রাজ্যগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে এই নির্বাচনে। ছোট রাজ্যগুলোতেও ইলেকটোরাল ভোটে কমপক্ষে তিনজন ইলেক্টরের অধিকার রয়েছে, যা ইলেকটোরাল কলেজ পদ্ধতিকে সব রাজ্যের কাছে সমান গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

তবে ইলেকটোরাল কলেজের ফলে কখনও কখনও জনপ্রিয় ভোট পাওয়া প্রার্থীও নির্বাচিত নাও হতে পারেন। ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে ঘটেছে, এবং এ বিষয়টি অনেক ভোটারকে হতাশ করে। তবু যুক্তরাষ্ট্রে এ পদ্ধতি অব্যাহত রয়েছে, কারণ এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সকল অঙ্গরাজ্যের কণ্ঠস্বর নিশ্চিত করে।

প্রচলিত এই ব্যবস্থাটি ১৭৮৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে যুক্ত হয়। তখন একটি জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা কঠিন ছিল। এর ফলে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যকে নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে দেওয়া হয়, এবং ইলেকটোরাল কলেজের ধারণা আসে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান

চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। শুক্রবার (৩ জুলাই) তিনি দেশে ফেরেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ...

ফ্যামিলি কার্ডে বদলাচ্ছে নারীদের অর্থনৈতিক বাস্তবতা: পানিসম্পদ মন্ত্রী

পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগের...

ইউরোপে নতুন ওষুধ বাজারজাতের অনুমোদন পেল রেনাটা

ওষুধ খাতের কোম্পানি রেনাটা পিএলসি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ছয়টি দেশে লেভোথাইরক্সিন সোডিয়াম ট্যাবলেট বাজারজাতের অনুমোদন পেয়েছে। ইইউর বিকেন্দ্রীকৃত অনুমোদন প্রক্রিয়ার (ডিসেন্ট্রালাইজড প্রসিডিউর-ডিসিপি) আওতায় আয়ারল্যান্ড, জার্মানি,...

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন চুক্তি

ক্লাস্টারভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বল্পসুদে ঋণ প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসির মধ্যে একটি পুনঃঅর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এ তথ্য...

Recent Comments