পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী হিউম্যান মেটানিউমো ভাইরাস (এইচএমপিভি) এবার বাংলাদেশেও শনাক্ত হয়েছে। রোববার (১২ জানুয়ারি) রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জের ভৈরবের এক নারীর শরীরে এই ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
এইচএমপিভি একটি সংক্রামক ভাইরাস যা শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করে। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি করোনাভাইরাসের মতোই হাঁচি, কাশি, করমর্দন এবং সংস্পর্শের মাধ্যমে একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। পূর্ব এশিয়ার দেশ চীনে প্রথমবারের মতো এই ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে। পরে এটি জাপান, মালয়েশিয়া এবং ভারতেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। রোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাসটি মূলত বয়স্ক ব্যক্তি, শিশুসহ দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মানুষদের ওপর বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই ভাইরাসটির বিস্তার রোধ করা সম্ভব।
চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, আক্রান্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখা এবং জনবহুল স্থানে মাস্ক ব্যবহার করার। পাশাপাশি শারীরিক অসুস্থতা বোধ করলে বাড়িতে অবস্থান করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা। ২০০১ সালে প্রথমবারের মতো এই ভাইরাসের অস্তিত্ব ধরা পড়ে চীনে। তবে এতদিনেও এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। চিকিৎসকরা প্রচলিত ওষুধ দিয়েই এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এইচএমপিভি প্রতিরোধে করোনাভাইরাসের মতোই সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢাকতে হবে এবং ব্যবহৃত টিস্যু বা রুমাল দ্রুত সঠিকভাবে ফেলে দিতে হবে। পাশাপাশি, হাত না ধুয়ে চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। সঠিক সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে এই ভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব বলে আশ্বস্ত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে রোগটির বিস্তার বাড়লে চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।


