রাজধানীর চানখারপুলে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় পুলিশের কনস্টেবল সুজন হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রবিবার (১২ জানুয়ারি) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। গত বছরের ৫ আগস্ট বোরহানউদ্দিন কলেজের পাশে ঘটে যাওয়া এ ঘটনা দেশব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সুজন হোসেন ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালাচ্ছেন। কখনও দাঁড়িয়ে, কখনও শুয়ে তিনি বেপরোয়া গুলি করছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনার পর গত ১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কনস্টেবল সুজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। একইসঙ্গে ১২ জানুয়ারি তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ অনুযায়ী এদিন সকালে সুজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, চানখারপুলের ওই ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ গুলিবিদ্ধ হন। অভিযোগ রয়েছে, সুজন ইচ্ছাকৃতভাবে গুলি চালিয়ে জনসাধারণের ক্ষতি করেছেন। তার এই আচরণকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে মামলাটি দায়ের করা হয়।
ঘটনার পরপরই গুলির ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও নাগরিক সমাজ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। তাদের মতে, এ ধরনের আচরণ রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কোনো সদস্যের কাছ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়। এরপর গত ১৪ সেপ্টেম্বর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কনস্টেবল সুজনকে গ্রেপ্তার করে। হত্যার অভিযোগে তাকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ট্রাইব্যুনালের আদেশ অনুযায়ী আগামী ২৩ জানুয়ারি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই মামলায় সুজনের বিরুদ্ধে গুলি চালানোসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের আরও অভিযোগ রয়েছে মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন, এ মামলার সুষ্ঠু বিচার হলে ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বেআইনি কর্মকাণ্ডে নিয়ন্ত্রণ আসবে। একইসঙ্গে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া আরও জোরদার হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।


