কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভোক্তা সুরক্ষা জোরদার, ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধি, গবেষণা, নীতিগত অ্যাডভোকেসি এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভোক্তা সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও পাওয়ারইন এআই-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
শনিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর ধানমন্ডিতে পাওয়ারইন এআই-এর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া এবং পাওয়ারইন এআই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুসরাত আখতার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে ক্যাবের সভাপতি এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, নির্বাহী পরিচালক আহম্মদ একরামুল্লাহ, পাওয়ারইন এআই-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল, পরামর্শক জাহাঙ্গীর আলম শোভনসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ক্যাবের সভাপতি এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান বলেন, কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনার জন্য নির্ভরযোগ্য ও তাৎক্ষণিক তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উৎপাদন, আমদানি, মজুত, পরিবহন এবং সরবরাহ ব্যবস্থার তথ্য বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাজার পর্যবেক্ষণকে আরও কার্যকর করবে। এর মাধ্যমে বাজারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধ এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। তিনি জানান, এই সমঝোতার আওতায় দুই প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এআই ও ডিজিটাল সাক্ষরতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ, গবেষণা, প্রযুক্তিনির্ভর বাজার পর্যবেক্ষণ, ভোক্তা অভিযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, নীতিগত সুপারিশ প্রণয়ন এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
পাওয়ারইন এআই-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, বিশ্ব দ্রুত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর নতুন যুগে প্রবেশ করছে। বাংলাদেশকে তথ্যনির্ভর ও প্রযুক্তিসমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে এআই-এর দায়িত্বশীল ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা, শিল্প, আর্থিক খাত ও সরকারি সেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে। ক্যাবের সঙ্গে এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভোক্তাদের ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভোক্তা সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, দুই প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এআইভিত্তিক প্রশিক্ষণ, ভোক্তা সচেতনতা কার্যক্রম, গবেষণা ও নীতিগত বিশ্লেষণ, প্রযুক্তিনির্ভর বাজার পর্যবেক্ষণ, এআইভিত্তিক ভোক্তা সহায়তা ব্যবস্থা উন্নয়ন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার, কর্মশালা ও সংলাপ আয়োজন, যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে কাজ করবে।
এছাড়া ভোক্তাবান্ধব এআই নীতি প্রণয়ন, তথ্য সুরক্ষা, ই-কমার্সে ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতকরণ, ডিজিটাল বাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভোক্তা সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতেও উভয় প্রতিষ্ঠান একযোগে কাজ করবে।


