ঢাকায় বসবাসরত শতভাগ শিশুর রক্তে বিষাক্ত ভারী ধাতু সিসা পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-এর এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ২ থেকে ৪ বছর বয়সী ৫০০ শিশুর শরীরে মধ্যম মাত্রায় ৬৭ মাইক্রোগ্রাম/লিটার সিসা রয়েছে। এর মধ্যে ৯৮ শতাংশ শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেশি, যা যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি নির্ধারিত ৩৫ মাইক্রোগ্রাম/লিটারের সীমার চেয়ে বেশি।
গবেষণায় উঠে এসেছে, ঢাকার আশপাশে অবস্থিত লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি কারখানা, সিসা গলানোর কেন্দ্র এবং রিসাইক্লিং শিল্পগুলোই দূষণের মূল উৎস। এছাড়া সিগারেটের ধোঁয়া, ঘরের ধুলাবালি, সিসাযুক্ত প্রসাধনী ও রান্নার পাত্র থেকেও শিশুর দেহে সিসা প্রবেশ করছে। বিশেষভাবে যেসব শিশু এসব কারখানার ১ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাস করে, তাদের রক্তে সিসার মাত্রা অন্যদের তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ বেশি
২০১৯ সালে রান্নায় ব্যবহৃত হলুদের গুঁড়ায় সিসার উপস্থিতি ধরা পড়লেও, সচেতনতা এবং সরকারের নজরদারিতে তা ২০২১ সালে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। তবে সিসা দূষণ এখনও বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে রয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে সিসা মারাত্মক প্রভাব ফেলে, যার ফলে শেখার ক্ষমতা ও বুদ্ধিমত্তা হ্রাস পায়। এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে।
আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ডা. তাহমিদ আহমেদ বলেন, এখনই যদি সিসা দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে দেশের লাখ লাখ শিশু চিরতরে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


