পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের প্রতিষ্ঠান জেমিনি সি ফুড লিমিটেডের শীর্ষ কর্তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আমিনা আহমেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও কাজী ইনাম আহমেদ এবং দুই পরিচালক কাজী নাবিল আহমেদ ও ড. কাজী আনিস আহমেদ এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিব দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক রেজাউল করিমের আবেদনের ভিত্তিতে এই আদেশ দেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, জেমকন গ্রুপের কয়েকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্যাংক জালিয়াতি ও অর্থ পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে তদন্ত চলছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে বিদেশে টাকা পাচার করেছে। অনুসন্ধানকালে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশ ছাড়তে পারেন, যা তদন্ত বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই তাদের বিদেশযাত্রা নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। এদিকে, জেমিনি সি ফুড লিমিটেডের আর্থিক অবস্থা ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৭১ পয়সা। এছাড়া, জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৪ সময়কালে মোট শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৯৪ পয়সা।
তবে, ২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে প্রতিষ্ঠানটি ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। এর মধ্যে ৭.৫০ শতাংশ নগদ এবং ৭.৫০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ। অর্থ পাচারের অভিযোগ এবং ক্রমাগত লোকসানের কারণে জেমিনি সি ফুডের ব্যবসায়িক অবস্থান এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কোম্পানির সাম্প্রতিক অবস্থা বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত হতে পারে।


