সরকার জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের জন্য আজীবন চিকিৎসা সুবিধা ও পুনর্বাসনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। পাশাপাশি শহিদদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা ও সঞ্চয়পত্র দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই আজম এই তথ্য জানিয়েছেন। রোববার সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে তিনি বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও শহিদদের ত্যাগের প্রতি সরকার অত্যন্ত সহানুভূতিশীল। তাদের যথাযথ স্বীকৃতি ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।”
তিনি জানান, আহতদের তালিকা ক্যাটাগরি অনুযায়ী তৈরি করা হচ্ছে এবং এই সপ্তাহের মধ্যেই চূড়ান্ত করা হবে। সরকার একটি নতুন অধিদপ্তর গঠন করছে, যার অধীনে পুনর্বাসন ও চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এ অধিদপ্তরের মাধ্যমে আহতদের জন্য আজীবন চিকিৎসা ও মাসিক ভাতা প্রদানের নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।শহিদদের পরিবারের জন্য এককালীন ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে, পরবর্তী অর্থবছরে অবশিষ্ট ২০ লাখ টাকা দেওয়া হবে। আহতদের জন্য ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত এককালীন অনুদান নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারের মানবিক উদ্যোগ সম্পর্কে ফারুক-ই আজম বলেন, “আমরা চাই, শহিদদের আত্মত্যাগের গৌরব অমলিন থাকুক এবং আহতরা যথাযথ সহায়তা পান। এই পরিকল্পনা যেন স্থায়ী ও কার্যকর হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও শহিদদের পরিবারগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


