চলতি অর্থবছরের (২০২৩-২৪) প্রথম ছয় মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার কমেছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ১৭.৯৭ শতাংশ, যা আগের দুই অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে এ হার ছিল ২২.৪৮ শতাংশ, আর ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ২৩.৫৩ শতাংশ।বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এ তথ্য তুলে ধরে এক অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। রোববার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ এ তথ্য জানান।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে। অথচ আগের অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ৬১ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। তার আগের বছর, অর্থাৎ ২০২২-২৩ অর্থবছরে ব্যয় হয়েছিল ৬০ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরে ব্যয়ের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১১ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা কম। এডিপি বাস্তবায়নের হার কমে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, আগের অর্থবছরগুলোর হিসাব সংশোধিত এডিপির ভিত্তিতে তৈরি। কিন্তু চলতি অর্থবছরে এখনো এডিপি সংশোধন করা হয়নি। ফলে বাজেটের মূল এডিপির ভিত্তিতে হিসাব করলে বাস্তবায়ন হার কম দেখাচ্ছে। তবে সংশোধিত এডিপি চূড়ান্ত হলে এ হার কিছুটা বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলতি অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণনির্ভর প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ধীরগতির কারণে এডিপি ব্যয় কম হচ্ছে। এছাড়া মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে সরকারি ব্যয়ে সংযম নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, যা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতিকে কিছুটা শ্লথ করেছে। সরকারি সংস্থাগুলোকে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো বলছে, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এডিপি বাস্তবায়নের হার বাড়বে। তবে পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই শেষ পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত চিত্র প্রকাশ পাবে।


