২০২১ সালের এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এর দাম নির্ধারণ করে আসছে। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার ভিত্তিতে প্রতি মাসে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এলপিজির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়, যার দাম নির্ধারণ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো। এই মূল্য ‘সৌদি কার্গো মূল্য’ (সিপি) নামে পরিচিত।বিইআরসি সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে দেশে এলপিজির মূল্য সমন্বয় করে। আমদানিকারক কোম্পানিগুলোর চালান মূল্য এবং মাসব্যাপী ডলারের বিনিময় হার বিবেচনা করে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার সঙ্গে মিলিয়ে প্রতি মাসে দেশে এলপিজির দাম পরিবর্তিত হয়।
এদিকে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় গত ৩১ জানুয়ারি এক প্রজ্ঞাপন জারি করে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে। নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ১০৪ টাকা থেকে বেড়ে ১০৫ টাকা হয়েছে। একইভাবে, পেট্রলের দাম প্রতি লিটার ১২১ টাকা থেকে ১২২ টাকা এবং অকটেনের দাম ১২৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২৬ টাকা করা হয়েছে। নতুন এই দাম ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ জনগণের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত পরিবহন খরচের ওপরই নয়, সামগ্রিকভাবে পণ্য পরিবহন ব্যয়েও পড়বে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি সাধারণ মানুষের রান্নার খরচ বাড়িয়ে দেবে। দেশে বাসাবাড়ি, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং ছোটখাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এলপিজির ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ফলে, এই দাম বাড়লে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ অর্থনৈতিকভাবে আরও চাপে পড়বে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার যদি স্থানীয় পর্যায়ে জ্বালানি উৎপাদন ও বিকল্প শক্তির ব্যবহার বাড়াতে পারে, তাহলে আমদানি নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
ভোক্তারা আশা করছেন, সরকার ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় অর্থনীতির ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেবে, যাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।


