নরসিংদীর পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে ভয়াবহ ঘুস বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই জেলার পুলিশ প্রশাসনে অস্থিরতা তৈরি হয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে বিভিন্ন পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুস আদায় করেছেন তিনি।
ডিবি ইন্সপেক্টর কামরুজ্জামান জানান, এসপি হান্নান প্রায়ই তাকে ব্যক্তিগত নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠিয়ে নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বলতেন। এইভাবে একাধিকবার তাকে লাখ লাখ টাকা পাঠাতে বাধ্য করা হয়। কোনো সময় টাকা না পাঠাতে চাওয়ায় হুমকিও দেওয়া হয়।
এসপি হান্নানের বিরুদ্ধে ঘুসের বিনিময়ে থানায় বদলি, পোস্টিং এবং অপরাধ দমন না করে অপরাধীদের প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। ডিবির এসআই মোস্তাক ও এএসআই হারেছ মিয়াকে ব্যবহার করে জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে মাসোহারা আদায় করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, এ দুজন মাদক ব্যবসায়ী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের থেকে নিয়মিত ঘুস আদায় করতেন।
আরও জানা গেছে, মাদক উদ্ধার অভিযানের পর জব্দকৃত ৯৬ কেজি গাঁজা ও ফেনসিডিল বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। এসপি নিজে স্বীকার করেছেন যে টাকা তিনি কামরুজ্জামানের মাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন, তা ছিল তার “ব্যক্তিগত”, এবং ঘুস দিয়ে পোস্টিং পাওয়ার চেষ্টার কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন।
এসপির ঘনিষ্ঠ তিন সদস্য—এসআই জামিরুল, এসআই সাইফুল ও কনস্টেবল রবিউল—তাকে সহযোগিতা করে একটি বলয় তৈরি করেছেন। তারা জেলার হাইওয়ে ও অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন বলে অভিযোগ।
বাহারুল আলম বলেছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রমাণিত হলে এসপির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে তদন্ত চলমান রয়েছে। এসপি হান্নানের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগগুলো যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে তা দেশের পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ও সাধারণ মানুষের আস্থার ওপর বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াবে।


