বাংলাদেশ থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ করে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যার পেছনে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, বাংলাদেশ নাকি মার্কিন পণ্যের ওপর ৭৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে রেখেছে। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণে এই হিসাবকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এনবিআরের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে যেসব পণ্য আমদানি হয় তার বেশিরভাগের ওপরই শুল্ক নেই বা খুব কম রয়েছে। যেমন গম, তুলা ও সয়াবিন বীজের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যে কোনো শুল্ক নেই। আবার রড তৈরির কাঁচামাল পুরোনো লোহার টুকরাতে শুল্ক মাত্র তিন থেকে চার শতাংশ।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে ২৬২ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে, যার মধ্যে ১৩৩ কোটি ডলারের পণ্যে কোনো শুল্কই নেই। গড়ে শুল্ক হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪.৪৮ শতাংশ। এ পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, ৭৪ শতাংশ শুল্ক আরোপের দাবি অতিরঞ্জিত।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যে ৩৭ শতাংশ শুল্ক বসানোর ফলে গড় শুল্ক দাঁড়াবে ৫২ শতাংশে, যা রপ্তানি খাতে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, যেখানে বাংলাদেশ মার্কিন বাজারে নির্ভরশীল। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি ফারুক হাসান উভয়েই এ সিদ্ধান্তকে রপ্তানির জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখছেন।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যা সমাধান করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রকৃত শুল্কের তথ্য উপস্থাপন করে ভুল ধারণা দূর করা দরকার। তারা এটাও মনে করেন, কোনো দেশের পণ্যে শুল্ক আরোপ না করে, দেশের ভিত্তিতে শুল্ক আরোপ করাটা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আইনের পরিপন্থী।
বর্তমানে এনবিআর বিস্তারিত পর্যালোচনা চালাচ্ছে এবং শুল্ক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তুতিও নিচ্ছে। ভবিষ্যতের রপ্তানি স্বার্থ রক্ষা ও বাণিজ্য ভারসাম্য বজায় রাখতে এই আলোচনাকে ফলপ্রসূ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।


