ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় জাতির উদ্দেশে দেয়া বিশেষ ভাষণে দেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে দুর্নীতিকে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি খাতগুলোতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দুর্নীতি নির্মূল করা হবে এবং আর্থিক খাতে সচ্ছতা জোরদার করা হবে।
বক্তব্যে চরমোনাই পীর বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দুর্নীতির ক্ষেত্রে প্রকাশ্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তিনি দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ইসলামের নীতিমালা প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া রাষ্ট্র সংস্কার, বিশেষ কর্মসূচি এবং খাতভিত্তিক পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি ভোট প্রদানে ইসলামের নীতি ও অবস্থানও বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন।
চরমোনাই পীর উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশে কাঙ্ক্ষিত সাম্য, ন্যায় ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তিনি জানান, অতীতে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা এর দায় এড়াতে পারে না। ভুল নীতি ও নেতাকে ভোট দেওয়ায় সাধারণ জনগণও এর অংশীদার হয়ে গেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই ভুল থেকে বেরিয়ে দেশকে সমৃদ্ধশালী করতে চায়।
পীর তার বক্তৃতায় ৩০ দফা নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ করেন, যা দেশের মানুষের কল্যাণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি হিসেবে ইসলামী মূল্যবোধকে প্রাধান্য দেবে। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য দেশের অস্থিরতা দূর করা, দুর্নীতি শূন্যে নামানো এবং দেশের মানুষকে সমৃদ্ধশালী করে তোলা।”
এর আগে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চরমোনাই পীরের এই বক্তব্য রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-তে সম্প্রচার করা হবে। এতে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে।


