রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো পর্যালোচনা করে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এ ধরনের মামলায় কেউ যেন অযথা ভোগান্তির শিকার না হন, সে লক্ষ্যেই একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ চলছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে দায়ের হওয়া অনেক মামলার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে সরকার ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না এবং প্রতিটি মামলাকে নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী জানান, জেলা পর্যায়ে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো পরীক্ষা করে সুপারিশ দেবে। পরে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গঠিত ছয় সদস্যের কমিটি এসব সুপারিশ যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। তিনি আরও বলেন, হত্যা মামলার মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং এমন মামলা সাধারণভাবে প্রত্যাহারের আওতায় আনা হচ্ছে না। তবে যেসব মামলা প্রকৃতপক্ষে হয়রানিমূলক হিসেবে প্রমাণিত হবে, সেগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই অধিবেশনে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, অতীতে বিচারকদের বদলি ও পদায়নে নানা বিতর্ক ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করলে বিচারকদের প্রত্যন্ত এলাকায় বদলি করা হতো, যা এক ধরনের চাপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বর্তমান সরকার এ ধরনের চর্চা থেকে সরে এসে বিচার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও পেশাগত মানদণ্ড প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি। বিচারকদের পদায়নে দক্ষতা, সততা ও পেশাগত আচরণকে প্রাধান্য দেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করা হবে।


