রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা ও মেয়েকে হত্যার ঘটনাকে ঘিরে নতুন তথ্য উন্মোচন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তদন্তে জানা গেছে, গৃহকর্মী আয়েশা পরিকল্পিতভাবে চুরির উদ্দেশ্যে ওই পরিবারে কাজ নেন এবং চুরি ধরা পড়াতেই ঘটে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) এস এন মো. নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, আয়েশা বাড়িতে কাজ নিলেও মূল লক্ষ্য ছিল মূল্যবান জিনিসপত্র হাতানো। ঘটনার দিন বাসার মালামাল চুরি করার সময় গৃহকর্ত্রী লায়লা আফরোজ তাকে হাতেনাতে ধরেন। এ সময় লায়লা তাকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দিতে চাইলে আয়েশা ধারালো ছুরি দিয়ে নিশংসভাবে আঘাত করে হত্যা করে।
পুলিশ জানায়, মায়ের চিৎকার শুনে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিয়া দৌড়ে এলে তাকেও নির্মমভাবে আঘাত করে হত্যা করা হয়। এরপর দ্রুত স্কুলড্রেস পরে বাসা থেকে পালিয়ে যায় আয়েশা, যেন তাকে সন্দেহ না করা হয়।
৮ ডিসেম্বর শাহজাহান রোডের ১৪ তলা ভবনের সপ্তম তলায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১০ ডিসেম্বর বরগুনার নলছিটি এলাকায় তার দাদা শ্বশুরবাড়ি থেকে আয়েশাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতারের পর আয়েশার স্বামী রাব্বিও জানান, আয়েশার উদ্দেশ্য ছিল কেবল স্বর্ণালংকার ও কিছু মালামাল চুরি করা। কিন্তু ধরা পড়ে যাওয়ার আতঙ্কে সে অপরাধ ঢাকতেই দুইজনকে হত্যা করে। সুরতহাল প্রতিবেদনে দেখা যায়, নিহত লায়লা আফরোজের শরীরে প্রায় ৩০টি এবং নাফিসার শরীরে ৪টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল, যা ঘটনার নৃশংসতার সাক্ষ্য দেয়।
পুলিশ বলছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আয়েশার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


