Saturday, May 2, 2026
Home অর্থ-বানিজ্য আইএমএফের ঋণ কর্মসূচিতে খুশি বিএনপি-জামায়াত

আইএমএফের ঋণ কর্মসূচিতে খুশি বিএনপি-জামায়াত

ঢাকা সফরে আসা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মিশন জানিয়েছে, বাংলাদেশে তাদের ঋণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে আইএমএফ মিশনের প্রধান ক্রিস পাপাজর্জিও এ তথ্য জানান। আইএমএফ তাদের ঋণের পরবর্তী কিস্তি রাজনৈতিক সরকার গঠনের পর ছাড় করতে চায় মর্মে অর্থ উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের মন্তব্যের পর সংস্থাটির পক্ষ থেকে এমন বার্তা এলো।

ঢাকায় ১৩ দিনের সফর শেষে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আইএমএফ মিশনপ্রধান বলেন, তারা বিএনপি এবং জামায়াত উভয় দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আইএমএফের সংস্কার এজেন্ডা, দৃষ্টিভঙ্গি ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রক্রিয়া, দলের অগ্রাধিকার এবং সেগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে–এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। রাজনৈতিক দলগুলো আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার বিষয়ে খুবই ইতিবাচক মত প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশের বর্তমান ৮ শতাংশের বেশি মূল্যস্ফীতিকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে বর্ণনা করে মিশনপ্রধান বলেন, যদিও এটি দুই বছর আগের দুই অঙ্ক থেকে কিছুটা কমেছে, তবুও এ হার অনেক বেশি। বিশেষত নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য উচ্চ মূল্যস্ফীতি অনেক কষ্টের। আইএমএফের পরামর্শ হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা পর্যন্ত কঠোর বা সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বজায় রাখা হোক।

আইএমএফ মিশনের বিবৃতিতে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়াবে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ। আগামী অর্থবছর শেষে তা সাড়ে ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে নীতি বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে বা দুর্বলতা থাকলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে, মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে এবং সামষ্টিক-আর্থিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

মিশনের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, বাংলাদেশ সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে কম রাজস্ব, আর্থিক খাতের ঝুঁকি এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি দেশের অর্থনীতিকে এখনও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে রেখেছে। এ অবস্থায় রাজস্ব আদায় বাড়ানো ও আর্থিক খাতে সংস্কারের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে।
মিশনের বিবৃতিতে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বলা হয়েছে, দুর্বল ব্যাংকগুলো পুনর্গঠনে একটি জাতীয় কৌশল নিতে হবে। এর আওতায় ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতির সঠিক হিসাব, সরকারি সহায়তার পরিধি নির্ধারণ এবং আইনি কাঠামোর মাধ্যমে পুনর্গঠন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি খাতের দুর্বল ব্যাংকগুলোর সম্পদের মান যাচাই এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

ষড়যন্ত্রকারীরা বিশ্ব দরবারে দেশকে বন্ধুহীন করার চক্রান্ত করছে: প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ যখনই গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে, কিছু মহলের সেটি পছন্দ নয়। তারা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে বিতর্কিত...

৬ দিন পর উৎপাদনে ফিরল বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিট ছয়দিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেছে। শুক্রবার (১ মে) ভোর ৪টা ২২ মিনিটে মেরামত...

১১ মাসের জেল জীবনে বদলে গেছেন অভিনেতা সিদ্দিক

এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান দীর্ঘ কারাবাসের পর যেন নতুন এক জীবন নিয়ে ফিরেছেন! দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ১১...

প্রথম প্রান্তিক সিটি ব্যাংকের নিট মুনাফায় ১৬২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সিটি ব্যাংক পিএলসি চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ২৪১ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা...

Recent Comments