ফ্যাসিবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ রয়েছে। তবে দলটির ওপর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কখন প্রত্যাহার করা হবে তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে জোর কৌতূহল বিরাজ করছে। সম্প্রতি জাতিসংঘ সফরে গিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক সাক্ষাৎকারে এ প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তাঁর বক্তব্যের পর আবারও নতুন করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় ওঠে।
এ বিষয়ে সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের ওপর থেকে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা খুব শিগগিরই প্রত্যাহারের কোনো সম্ভাবনা নেই। বুধবার (১ অক্টোবর) দুপুরে বরিশালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। ওই সময় তিনি দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করছিলেন।
আইন উপদেষ্টা বলেন, “যখন কোনো দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়, তখন সেটি স্থায়ী নাকি অস্থায়ী—এই প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই আসে। তবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম সচল হওয়ার কোনো তাৎক্ষণিক সম্ভাবনা আমি দেখছি না।” তাঁর মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের বিদেশি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর বাইরে কোনো ভিন্ন রাজনৈতিক ইঙ্গিত নেই। পাহাড়ি এলাকায় সাম্প্রতিক অশান্ত পরিস্থিতি নিয়েও আইন উপদেষ্টা মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “যারা পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না।”
বরিশাল সফরে ড. আসিফ নজরুল দুপুরে সার্কিট হাউসে পৌঁছে নগরীর নতুন বাজার সংলগ্ন শংকর মঠ পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করেন। পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক শান্তি রক্ষায় সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সব মিলিয়ে, সরকারের আইন উপদেষ্টার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা তাৎক্ষণিকভাবে উঠছে না, বরং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজনেই সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।


