পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা এবার প্রথমবারের মতো আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এ উদ্যোগকে দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
সোমবার রাতে নির্বাচন কমিশনের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি প্রবাসীদের উদ্দেশে বলেন, ভোটাধিকার প্রয়োগ করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা প্রবাসীরাও যাতে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সেজন্যই এই ডিজিটাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সিইসি জানান, প্রবাস থেকে ভোট দেওয়ার জন্য নাগরিকদের ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং’ ব্যবস্থায় নিবন্ধন করতে হবে। এ লক্ষ্যে খুব শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। তিনি বলেন, “অ্যাপটি আপনার মোবাইল ফোনে ডাউনলোড করলে সেখানে ধাপে ধাপে নির্দেশনা সম্বলিত একটি ভিডিও পাবেন। এর মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সহজে সম্পন্ন করতে পারবেন।”
রেজিস্ট্রেশনের সময় প্রয়োজন হবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), বৈধ পাসপোর্টের তথ্য এবং প্রবাসে বর্তমান ঠিকানা। অ্যাপের মাধ্যমে মুখ শনাক্তকরণ ও লাইভনেস ডিটেকশন সম্পন্ন করার পর নিবন্ধন নিশ্চিত হবে। এরপর নির্দিষ্ট প্রবাসী ঠিকানায় ডাকযোগে পৌঁছে যাবে ভোটারদের ব্যালট পেপার ও ফেরত পাঠানোর খাম।
ভোট প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পর্কেও বিস্তারিত জানান সিইসি নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, “ভোট দেওয়ার পর নির্দিষ্ট খামে ব্যালট পেপার ভরে কেবল পোস্ট অফিসে জমা দিতে হবে। ডাক বিভাগ তা যথাসময়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে দেবে।”
প্রবাসীদের এ সুযোগ গ্রহণে উৎসাহিত করে তিনি আরও বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় আপনাদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই যে সকল প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত আছেন, তাদের সবাইকে অবশ্যই এই রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে যুক্ত হতে হবে।
নির্বাচন কমিশন বিশ্বাস করে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদেশে অবস্থানরত লক্ষাধিক ভোটার প্রথমবারের মতো সহজ ও নির্ভরযোগ্যভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এটি দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে চিহ্নিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


