আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রভাবে দেশের জ্বালানি খাতে চাপ তৈরি হওয়ায় সরকারকে মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
সোমবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, সরকার জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় বাস্তবতার নিরিখে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম দুই দফা বাড়ানো নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতি মাসে জ্বালানির মূল্য পর্যালোচনার একটি ব্যবস্থা রয়েছে। তবে গত মে মাসে কোনো সমন্বয় করা হয়নি। সরকারের লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করা। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে কিছু ক্ষেত্রে মূল্য সমন্বয় প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
তিনি জানান, দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের বড় অংশই ডিজেল, যার পরিমাণ প্রায় ৬৬ শতাংশ। এ খাতে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণও বেশি। জনগণের ওপর প্রভাব কম রাখতে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
ভবিষ্যতে জ্বালানির দাম বাড়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার আশা করছে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা যাবে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে এলে সেই সুফল দ্রুত দেশের ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) স্বাধীনভাবে গ্রহণ করে। কোনো প্রস্তাব এলে তা গণশুনানির মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়।
দীর্ঘমেয়াদে ভর্তুকির চাপ কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি অফশোর গ্যাস অনুসন্ধান, ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণ এবং এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


