মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম অভিযোগ করেছেন যে, গত ১৫ বছর ধরে দলীয় স্বার্থে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, এবং এই প্রক্রিয়ার সাথে কখনো কখনো মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডাররাও জড়িত ছিলেন। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
ফারুক ই আজম বলেন, “দলীয় বিবেচনায় অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরির প্রক্রিয়া গত ১৫ বছরে তীব্র আকার ধারণ করেছে। অথচ এই তালিকায় যারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি।” তিনি আরও বলেন, এই প্রসেসে কিছু মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডাররাও সহায়তা করেছেন, যা সত্যিই দুঃখজনক। তাদের উচিত ছিল, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও সম্মান রক্ষা করা।
তিনি জানান, বর্তমান সরকার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান বজায় রাখতে এবং তালিকার শুদ্ধতা নিশ্চিত করতে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্ত করে, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সন্মান ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।উপদেষ্টা আরও বলেন, “এটি আমাদের ইতিহাসের অংশ, এবং ইতিহাসকে বিকৃত করা বা অপব্যবহার করা উচিত নয়। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষায় সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।”
অন্যদিকে, অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত বক্তারা জেনারেল ওসমানীর বীরত্বগাঁথা পাঠ্যপুস্তকে বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তোলেন। বক্তারা বলেন, জেনারেল ওসমানী ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতৃত্ব। তার সংগ্রামী জীবন ও অবদান শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসময় ওসমানী স্মৃতি পরিষদ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে তার স্মৃতি রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কয়েক দফা দাবি জানান। তারা জানান, জেনারেল ওসমানীর স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা উচিত, এবং তার অবদানের প্রতি আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সরকারের তরফ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।


