বাংলাদেশ ও তুরস্ক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এসব বিষয় গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান নেতৃত্ব দেন। আলোচনা শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে উভয় দেশের মন্ত্রীরা সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এখন আরও গভীর ও বহুমাত্রিক সহযোগিতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমান সরকার জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক জোরদারে কাজ করছে।
তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এফটিএ অথবা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, প্রযুক্তি, শিল্প, অবকাঠামো এবং বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতেও দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
অন্যদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় তুরস্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে এবং আঙ্কারা এসব ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে আগ্রহী।
রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ফিদান বলেন, মানবিক কারণে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে। তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে তুরস্কের সমর্থন অব্যাহত থাকার আশ্বাস দেন।
এছাড়া গাজাসহ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দুই দেশের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নতুন গতি পাবে এবং অর্থনীতি, উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত অংশীদারিত্বের পথ সুগম হবে।


