বগুড়ার শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে আলোচনায় এসেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এবার প্রায় অর্ধশতাব্দীর পুরোনো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে তার নাম যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘শিবগঞ্জ মীর শাহে আলম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক-১ শাখায় এ সংক্রান্ত আবেদন জমা পড়ে।
প্রস্তাব পাওয়ার পর বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শিরিন আক্তার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বগুড়ার জেলা প্রশাসক এবং রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে মতামত, যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের এই উদ্যোগ সামনে আসার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে সম্প্রতি গঠিত কয়েকটি ইউনিয়নের নামকরণ বিতর্ক। গত ১১ জুন জেলা প্রশাসনের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিবগঞ্জ ও নবঘোষিত মোকামতলা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রশাসনিক পুনর্গঠন করা হয়। সেই প্রজ্ঞাপনে নতুন ইউনিয়নগুলোর নাম রাখা হয় মীরবাড়ী, সীমান্ত, দিগন্ত ও স্বর্ণগ্রাম।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এসব নামের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। তাদের দাবি, ‘মীরবাড়ী’ নামটি প্রতিমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ির নাম অনুসারে রাখা হয়েছে। একইভাবে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ তার দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিল রয়েছে। এছাড়া ‘স্বর্ণগ্রাম’ নামটিও পরিবারের এক সদস্যের ডাকনামের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ইউনিয়নগুলোর নামকরণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে করা হয়েছে। তার সন্তানদের নামে কোনো ইউনিয়নের নাম রাখা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে ইউনিয়নের নামকরণ বিতর্ক পুরোপুরি থিতিয়ে যাওয়ার আগেই দীর্ঘদিনের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে প্রতিমন্ত্রীর নাম যুক্ত করার প্রস্তাব সামনে আসায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ড বর্তমানে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


