রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলা এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় বৈশ্বিক অঙ্গীকার জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত মানবিক সহায়তা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বৈঠকে তিনি চলমান বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকট, মানবিক চ্যালেঞ্জ এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগের বিষয় তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংঘাত ও সহিংসতার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মানবিক পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সংঘাত প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তা, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তবে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান কেবল তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের মাধ্যমেই সম্ভব।
তিনি রোহিঙ্গা শিবিরে নারী ও মেয়েদের জন্য বরাদ্দ আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সহযোগিতা কামনা করেন।
বক্তব্য প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা এবং অনলাইন হয়রানির বিষয়ও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নারী ও কিশোরীরা ক্রমবর্ধমানভাবে ডিজিটাল অপব্যবহার, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও সাইবার হয়রানির শিকার হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ ও কার্যকর বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মানবিক মূল্যবোধ, শান্তি ও টেকসই সমাধানভিত্তিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।


