জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের দাবি নতুন করে সামনে এনেছেন এক শহীদ যোদ্ধার বোন। আন্দোলনের সময় দেওয়া ত্যাগ ও আত্মদানের মূল্যায়ন হিসেবে তিনি ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন এবং তা কার্যকর করতে গণভোট আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন। তার এই আবেদন জনমনে আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছে—আন্দোলনের লক্ষ্য কতটা পূরণ হয়েছে এবং কোন প্রতিশ্রুতিগুলো এখনও অপূর্ণ রয়ে গেছে।
সম্প্রতি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া তাদের জন্য এখন এক ধরনের শূন্যতা ও বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাইকে হারানোর ক্ষত এখনও তাজা, আর পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিন সেই শোক বয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনের সময় যে মানুষগুলো একসঙ্গে ছিলেন, তাদের অনেকেই এখন আর খোঁজ নেন না। তার ভাষায়, “আমরা একটা ফোনের অপেক্ষায় থাকি, কিন্তু কেউ খোঁজ নেয় না।”
তিনি আরও বলেন, তার মা সবসময় ভয়ের মধ্যে থাকেন—একই পরিবারে আর কোনো প্রিয়জন হারানোর আশঙ্কা তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। এই পরিস্থিতিতে তিনি মনে করেন, শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন জরুরি, আর সেটির অন্যতম পথ হতে পারে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নিশ্চিত করা।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, এই বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তার দাবি, আন্দোলনের চেতনা শুধু স্মৃতিতে নয়, বাস্তব নীতিনির্ধারণে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।শেষে তিনি হতাশার সুরে বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হয়। পরিবার-পরিজনের কষ্টের কথা বিবেচনা করে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তার এই বক্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বপ্নগুলো কতটা বাস্তবে রূপ পেয়েছে।


