রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বাংলাদেশ এলপি গ্যাস লিমিটেড সাড়ে ১২ কেজি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে নতুন করে মূল্য নির্ধারণের আবেদন করা হয়েছে, যেখানে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৪১০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ২৩৫ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় কোম্পানির এলপিজির দাম বেসরকারি কোম্পানিগুলোর তুলনায় কম থাকায় বাজারে ক্রসফিলিংয়ের ঘটনা বাড়ছে। অর্থাৎ, বেসরকারি সিলিন্ডারে রাষ্ট্রীয় কোম্পানির গ্যাস ভরে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এই অনিয়ম বন্ধ করা এবং উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতেই দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইউসুফ হোসেন ভুঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন–এর মূল্য নির্ধারণ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই দাম বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। প্রস্তাবটি এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনায় রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাজারে এলপিজি সরবরাহ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের খরচ বেড়েছে। পরিবহন ব্যয়, অপারেশনাল খরচ এবং ডিলার পর্যায়ের বিভিন্ন চার্জ বৃদ্ধির কারণে আগের দামে গ্যাস সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই নতুন করে মূল্য সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে একই ধরনের একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তখন সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২৫ টাকা করার আবেদন করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু সেই প্রস্তাব অনুমোদন করেনি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। ফলে তখন আগের মূল্যই বহাল রাখা হয়।
বর্তমানে নতুন করে দেওয়া প্রস্তাবটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিষয়টি যাচাই–বাছাই শেষে কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। অনুমোদন মিললে নতুন মূল্য কার্যকর করা হবে।
এদিকে সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির খবরে ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এলপিজির দাম বাড়লে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহস্থালি ব্যয়ে বাড়তি চাপ পড়তে পারে।


