রাজধানীতে শুক্রবার কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের পররাষ্ট্রনীতির দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও আস্থার ভিত্তিতে আরও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমৃদ্ধি আসে সহযোগিতা ও সংযুক্তির মাধ্যমে, বিচ্ছিন্নতার মাধ্যমে নয়। ইফতারের আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, এই অনুষ্ঠান কেবল আনুষ্ঠানিক নয়; এটি বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা, সম্মান ও ঐক্যের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।
তারেক রহমান সরকারের অর্থনৈতিক নীতি ও সামাজিক উন্নয়নের পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদার করা, ব্যবসা পরিবেশ সহজ করা, দায়িত্বশীল বিনিয়োগ আকর্ষণ ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা সরকারের অঙ্গীকার। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ—সবই সরকারের প্রাধান্য থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতে স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহিতাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন। গণতন্ত্র শুধুমাত্র ব্যালট বাক্সে সীমাবদ্ধ নয়; এটি অন্তর্ভুক্তি, সংলাপ ও স্বচ্ছতার ধারাবাহিক অঙ্গীকার। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন ও সহনশীলতা নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
ইফতার অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্র সচিবরা বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে সমর্থনের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় অংশীদারিত্বকে গুরুত্ব দিয়ে, দেশকে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও কূটনৈতিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


