রমজান ও ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে তাৎক্ষণিক ও মধ্যমেয়াদি একাধিক পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, জনসেবা নিশ্চিত করতে প্রথম ১০ দিনকে ‘তাৎক্ষণিক কর্মপর্ব’ হিসেবে ধরে কাজ শুরু করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রমজানে গ্যাস সংকট নিরসনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে রাজধানীতে আবাসিক সংযোগ সচল রাখতে তিতাস গ্যাসের প্রকৌশলীদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় করা হবে এবং সরবরাহ সক্ষমতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট থানা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হবে। ছিনতাই, চুরি ও সড়ক অপরাধ দমনে টহল বাড়ানো এবং পুলিশ ফাঁড়িগুলো সক্রিয় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, চিহ্নিত স্পটগুলো বন্ধ করা, মাদক রুট নজরদারিতে আনা এবং প্রভাবশালীদের আইনের আওতায় আনতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণেও থাকবে কড়া নজরদারি। বাজারে গোপন তদারকি, মজুতদারদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার করা হবে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দেওয়া হবে।
যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ইন্টারসেকশনে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন, অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ এবং দখলমুক্ত ফুটপাত নিশ্চিত করা হবে। গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।
ঈদের আগে ও পরে দ্বিতীয় ধাপে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ওয়ার্ডভিত্তিক সড়ক পরিদর্শন করে জরুরি মেরামত, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, খোলা ড্রেন ঢেকে দেওয়া এবং আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেনের ব্লক অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত তদারকি, নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা নিশ্চিত করা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, স্ট্রিট লাইট সংস্কার এবং ধুলোপ্রবণ এলাকায় পানি ছিটানোর মতো কার্যক্রমও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে পরিকল্পনায়। এ সব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার কথা জানান তিনি।
ইশরাক হোসেন বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সমন্বিত ও সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


