খেজুরের আমদানি শুল্কহার কমানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে থাকা খেজুর খালাসে গতি এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে শুল্ক জটিলতার কারণে বন্দরে জমে থাকা চালান এখন ধীরে ধীরে বাজারে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এতে রমজান সামনে রেখে খেজুরের সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি দামে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খেজুর আমদানি হয়েছে। শুল্কহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করার পর ব্যবসায়ীরা আগের তুলনায় দ্রুত পণ্য খালাস নিতে পারছেন। ফলে বন্দরে জমে থাকা কয়েক হাজার মেট্রিক টন খেজুর ধাপে ধাপে বাজারে আসছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রকারভেদে খেজুরের দাম প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আম্বর, মরিয়ম, আজোয়া ও মাশরুকসহ কয়েকটি জনপ্রিয় জাতের খেজুরের দামে হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে। পাইকারি বাজারে দাম কমার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়তে শুরু করেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত কিছুটা দেরিতে এলেও তা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে বন্দরে দীর্ঘদিন আটকে থাকার কারণে ডেমারেজ খরচ বেড়ে যাওয়ায় শুল্ক ছাড়ের পুরো সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মতে, আগে সিদ্ধান্ত এলে আমদানি ও সরবরাহ আরও স্বাভাবিক হতো।
বাংলাদেশে বছরে প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন খেজুরের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে রমজান মাসেই ইফতারের জন্য প্রয়োজন হয় মোট চাহিদার বড় অংশ। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর, ইরান ও উত্তর আফ্রিকার কয়েকটি দেশ থেকে মূলত খেজুর আমদানি করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, শুল্ক ছাড়ের পাশাপাশি বাজার তদারকি জোরদার করা গেলে রমজানে খেজুরের দাম আরও সহনীয় রাখা সম্ভব হবে।


