জুলাই মাসের গণহত্যার দায়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না বলে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, আইনগত ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার কারণে দলটির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
বুধবার বিকেলে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। শফিকুল আলম জানান, যেহেতু আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ এবং নির্বাচন কমিশন দলটিকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে বাদ দিয়েছে, তাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণের প্রশ্নই ওঠে না।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক পাঁচজন মার্কিন আইনপ্রণেতার পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে পাঠানো একটি চিঠির প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে প্রেস সচিব বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ওই চিঠি দেখেননি এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগের বিষয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার ও দ্ব্যর্থহীন।
প্রেস সচিব আরও জানান, চলতি বছরের মে মাসে জুলাই গণহত্যার দায়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের যাবতীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে সরকার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুযায়ী আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগ করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই নিষিদ্ধ সংগঠনকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে দেওয়া হবে না।


