২০২৫ অর্থবছরে আর্থিক কার্যক্রমের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে যমুনা ব্যাংক পিএলসি। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূলধন, সম্পদ, আমানত, বিনিয়োগ এবং শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটিতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে ব্যাংকটি তার আর্থিক ভিত্তিকে আরও সুসংহত করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকটির মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ৮৬৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬ হাজার ২২১ কোটি টাকা বেশি। সম্পদের এ প্রবৃদ্ধি ব্যাংকটির পরিচালন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসা সম্প্রসারণের সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
একই সময়ে মোট আমানত ও অন্যান্য হিসাব বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৩১ কোটি ৫৪ লাখ টাকায়। ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ৪ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা বেশি আমানত সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে ব্যাংকটি। এটি গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধি এবং তহবিল সংগ্রহে ব্যাংকটির সক্ষমতার প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
বিনিয়োগ খাতেও ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। ২০২৫ সালে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ২২৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ ১৯ হাজার ৪০২ কোটি ১৮ লাখ টাকা এবং অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ ৮২৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। নিরাপদ ও পরিকল্পিত বিনিয়োগ কৌশল ব্যাংকটির আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হয়েছে।
শেয়ারহোল্ডারদের মোট ইকুইটি বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৫৭৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪০৫ কোটি টাকা বেশি। একই সঙ্গে রিটেইনড আর্নিংস বৃদ্ধি পেয়ে ৪৪৬ কোটি ৯১ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। এছাড়া প্রতি শেয়ারের নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) ২৪ দশমিক ৬১ টাকা থেকে বেড়ে ২৭ দশমিক ৪৩ টাকায় উন্নীত হয়েছে।
তারল্য ব্যবস্থাপনাতেও ইতিবাচক অবস্থান ধরে রেখেছে ব্যাংকটি। বছরের শেষে হাতে নগদ অর্থ ছিল ১ হাজার ৯৯৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও এজেন্ট ব্যাংকে সংরক্ষিত অর্থের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৭০ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
এদিকে পরিশোধিত মূলধন, মূলধন পর্যাপ্ততা, ঋণ বিতরণ এবং পরিচালন আয়েও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যাংকিং, নতুন পণ্য ও সেবা চালু, গ্রাহকসেবা সম্প্রসারণ এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগও চালিয়ে যাচ্ছে যমুনা ব্যাংক। নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব অগ্রগতি ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি


