কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ডোবায় ভেসে উঠল দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রাইসা খাতুনের মরদেহ। বুধবার (১ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের নওদা খাদিমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাইসা (৮) স্থানীয় আকরাম সর্দ্দারের মেয়ে এবং নওদা খাদিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। দুপুরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে রাইসাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না বলে স্বজনরা জানান। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো তথ্য পাননি। অবশেষে রাতে এলাকাবাসীর নজরে আসে বাড়ির পাশের একটি ডোবা। সেখানে ভাসমান অবস্থায় দেখা যায় ছোট্ট রাইসার নিথর দেহ।
ঘটনাটি জানাজানি হলে মুহূর্তেই এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়রা দৌড়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পরে মিরপুর থানা পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মমিনুল ইসলাম বলেন, “আমরা মরদেহ উদ্ধার করেছি। প্রাথমিকভাবে এটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে আসার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গ্রামের অনেকেই রাইসার মৃত্যুকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, শিশুটি খেলার ছলে ডোবায় পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। তবে পরিবার ও স্বজনদের দাবি, রাইসার মৃত্যু স্বাভাবিক নয়; এর পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। এ ঘটনায় পুরো গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাইসার মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বলেন, “সে খুবই মেধাবী ছাত্রী ছিল। তার এই অকাল মৃত্যুতে আমরা সবাই গভীরভাবে মর্মাহত।” এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়েছেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।
মাত্র আট বছরের এক শিশুর এভাবে মৃত্যুতে নওদা খাদিমপুর গ্রামে এখনো নেমে এসেছে শোকের আবহ। এলাকাবাসী দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


