রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ মার্কিন শুল্কনীতি ও নিষেধাজ্ঞার কড়া সমালোচনা করেছেন। রাশিয়ার প্রধান চ্যানেল ১-এর ‘দ্য গ্রেট গেম’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভারত ও চীনকে মার্কিন নির্দেশে রাশিয়ার জ্বালানি বন্ধ করতে বলার চেষ্টা ‘কোনো ফল দিতে পারবে না’। লাভরভের মতে, এই দুই প্রাচীন সভ্যতাকে আলটিমেটামের মাধ্যমে চাপানো সম্ভব নয়।
লাভরভ বলেন, “আমাদেরকে বা ভারত ও চীনকে বলা হচ্ছে, ‘আমার পছন্দ নয়, তাই এটা বন্ধ করো, নইলে শুল্ক চাপাব।’ কিন্তু এরকম কোনো প্রভাব পড়বে না। এছাড়া এই পদ্ধতিতে নৈতিক ও রাজনৈতিক সমস্যাও রয়েছে।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি এবং রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞাকে কূটনীতিকভাবে সমালোচনা করেছেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ভারতের ওপর চাপ দিয়ে বলছেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনার মাধ্যমে নয়াদিল্লি ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য অর্থ সরবরাহ করছে। তবে ভারত তা অস্বীকার করে জানিয়েছে, দেশের স্বার্থের ভিত্তিতেই তারা ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।
লাভরভ আরও বলেন, “আমরা নতুন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কোনো সমস্যা দেখছি না। ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ও রাশিয়াকে বিপুল পরিমাণ নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তবে বাইডেন প্রশাসনের নীতি হলো, নিষেধাজ্ঞাকে কূটনীতির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা।”
রাশিয়ার জ্বালানি বিক্রির ক্ষেত্রে ভারত ও চীন নতুন বাজার ও উৎস খুঁজে পেতে বাধ্য হচ্ছে। এতে তাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। লাভরভের মন্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, রাশিয়া ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও শুল্ক নীতি এই সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারবে না।


