নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের জন্য সুপরিচিত চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ্যে আসেনি আগে। তবে সম্প্রতি তিনি নতুন রাজনৈতিক দল ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’ গঠন করেন। এ দলটির পেছনে অর্থায়ন ও পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মার্কিন নাগরিক এবং গোয়েন্দা সংস্থার কথিত এজেন্ট এনায়েত করিম চৌধুরী।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) জানায়, গ্রেফতার এনায়েত করিমকে ৪৮ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে দলের অর্থায়ন ও গঠনকাহিনি। তিনি প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা দলের জন্য সরবরাহ করতেন। বাকি অর্থ নিজেই সংগ্রহ করতেন ইলিয়াস কাঞ্চন।
তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, এনায়েত বর্তমান সরকার পরিবর্তন করে জাতীয় সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেল ও গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে অবস্থানকালে তিনি নীতিনির্ধারক, আমলা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই সূত্রেই ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং তাকে নতুন দল গঠনে রাজি করান।
তদন্তে আরও জানা যায়, এনায়েতের সঙ্গে দুজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার যোগাযোগ ছিল। এর মধ্যে একজন তাকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান। এছাড়া দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত এক আমলার সঙ্গেও তার ১৫০ কোটি টাকার লেনদেনচুক্তির তথ্য পাওয়া গেছে, যদিও অর্থপ্রদানের প্রমাণ মেলেনি। এনায়েতের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন মোস্তফা আজাদ, যিনি পূর্বে একাত্তর টিভির কর্মকর্তা ছিলেন। তার মাধ্যমে অর্থ লেনদেন হতো।
মিন্টো রোডে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরির সময় এনায়েতকে গ্রেফতার করা হয়। আদালত তাকে একাধিক দফায় রিমান্ডে পাঠিয়েছে। পুলিশের দাবি, তিনি বিদেশি সংস্থার হয়ে কাজ করছিলেন এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন।


