ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার সকাল আটটা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর এ রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪১ জনে। একদিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৮২৯ জন। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞাপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে ৩৫২ জন ঢাকা মহানগরের। এর বাইরে ঢাকা বিভাগে ১৭২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯১, খুলনা বিভাগে ৭৩, বরিশাল বিভাগে ৭১, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩, রাজশাহী বিভাগে ২৪ ও রংপুর বিভাগে ২৩ জন রয়েছেন। গত এক দিনে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৮১০ জন। গতকাল সকাল আটটা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৯৩১ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক আতিকুর রহমান জানান, ডেঙ্গু এখন সিজনাল নেই, সারা বছরই হচ্ছে। বৃষ্টি শুরু হলে এটা বাড়ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিরোধক ওষুধ ব্যবহারের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনে পক্ষ থেকে সব জায়গায় প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
কীটতত্ত্ববিদ ড. মনজুর চৌধুরী বলেন, মশানিধনে শুধু জেল-জরিমানা আর জনসচেনতনা বাড়িয়ে কাজ হবে না। সঠিকভাবে জরিপ চালিয়ে দক্ষ জনবল দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
মশার ৮ হাজার প্রজননস্থল একদিনে ধ্বংস: ডেঙ্গু মোকাবিলায় সারাদেশে একদিনে মশার ৮ হাজার ৩৮০টি প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি সিটি করপোরেশন এলাকায় ৮ হাজার ১০৫টি এবং পৌরসভাগুলাতে ২৭৫টি প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয়। গতকাল স্থানীয় সরকার বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, মশক নিধন অভিযান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক গঠিত মনিটরিং টিম এবং সব সিটি করপোরেশন ও ঝুঁকিপূর্ণ পৌরসভায় বৃহস্পতিবার ২ হাজার ৭১০ জন কর্মী কাজ করেছেন। ড্রাম, ভাঙ্গা পাত্র, নির্মানাধীন ভবন, ফুলের টব ও লিফটের গর্তে জমে থাকা পানি পাওয়ায় খুলনা সিটি করপোরেশনে ৫টি এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ৬টিসহ ১১টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মামলা করা হয়েছে। সারাদেশে ৪৩টি সতর্কীকরণ নোটিশ জারি করা হয়েছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং, লিফলেট ও পোস্টার বিতরণ করা হয়েছে।


