সম্পাদক পরিষদ সম্প্রতি একটি বিবৃতিতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গণহারে হত্যা ভিত্তিতে মামলা দায়েরের প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পরিষদের মতে, এ ধরনের মামলার মাধ্যমে প্রচলিত আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিশ্রুতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। শনিবার সংগঠনটির পক্ষে সভাপতি মাহফুজ আনাম ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ এ বিবৃতি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, যদি কোনো সাংবাদিক অপরাধ করেন, তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত অপরাধের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। কিন্তু বর্তমানে যেভাবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। এর মাধ্যমে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে মনে করেন সম্পাদক পরিষদ।
সম্পাদক পরিষদ আরও উল্লেখ করে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (ডিএসএ), সাইবার নিরাপত্তা আইন (সিএসএ) সহ বিভিন্ন নিবর্তনমূলক আইনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের হয়রানি করা হয়েছিল, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিন্দিত হয়েছে। একইভাবে, বর্তমানে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দেওয়ার ধারাবাহিকতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্তর্বর্তী সরকারের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করছে। এর ফলে দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়েছে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সম্পাদক পরিষদ এও বলে, যারা সত্যিকারের অপরাধ করেছেন, তাদের অবশ্যই যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু কোনো সাংবাদিকের অপরাধ প্রমাণিত না হলে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া উচিত। নির্দোষ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথকে রুদ্ধ করে দিচ্ছে।
এছাড়া, পরিষদ জোর দিয়ে বলে, সাংবাদিকতা পেশার মূলনীতি লঙ্ঘন করে যারা নীতিহীন ও পক্ষপাতদুষ্ট সাংবাদিকতা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পরিষদ প্রস্তাব করে, বিগত সরকারের বিভিন্ন নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ডে যারা সমর্থন দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা যেতে পারে এবং প্রমাণিত হলে প্রেস কাউন্সিল আইনে শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে।
সর্বশেষে, সম্পাদক পরিষদ সাংবাদিকদের মুক্তভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়, যেন কোনো হয়রানি বা মিথ্যা মামলার মাধ্যমে তাদের কণ্ঠরোধ না করা হয়।


